ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুত কর্মী ও গ্রাহকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সামনে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গ্রাহকদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তারা স্থান ত্যাগ করেন। এর আগে সকাল ১০টা থেকে এক সময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। তাদের উল্লেখযোগ্য অংশের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের সমাবেশে দাবি-দাওয়া
পরে গ্রাহকদের সমাবেশে ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর সভাপতি নূরুন নবী মানিক কয়েকটি দফা দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে– এস আলমসহ সংশ্লিষ্ট সব শীর্ষ ‘লুটেরা’কে গ্রেফতার; দেশে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা; বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা; ব্যাংক রেজুল্যুশন আইনে সংযোজিত ১৮/ক ধারা বাতিল করা এবং ব্যাংকের সামনে ‘মব’ সৃষ্টির সুযোগ দিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, কোনও ধরনের অবৈধ দখলদার গোষ্ঠীকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তারা দাবি করেন, যাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যাংকের মালিকানা নেওয়া হয়েছে, তাদের হাতেই দ্রুত মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
সমাবেশে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে ব্যাংক দখলের প্রচেষ্টা বন্ধ, ‘কালো আইন’ বাতিল এবং এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলো বাস্তবায়নে জনমত গড়ে তুলতে আগামী ১৫ দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ।
ব্যাংক নিয়ে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েন
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে, যার প্রতিফলন হিসেবে মাঠ পর্যায়ে এমন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনাটি ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক আস্থার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



