নির্বাচন ও ঈদে নগদ টাকার চাহিদা বৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঈদ উদযাপনের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে ব্যাংকগুলোর বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের মতে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা।
নগদ টাকার প্রবাহের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসারে, গত নভেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে এই পরিমাণ বেড়ে হয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, এবং জানুয়ারিতে আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনী সময়ে রাজধানী ও শহরাঞ্চলের নাগরিকদের গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক লেনদেনের কারণে এই চাহিদা বেড়েছে।
প্রবাসী আয়ে রেকর্ড অর্জন
নগদ টাকার চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি, প্রবাসী আয়েও একটি ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয় রেকর্ড পরিমাণে এসেছে, যা ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিমাণ গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি এবং এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ও ৩০১ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল, যা চার মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের ধারা বজায় রাখছে।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষণ
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, নির্বাচন, রমজান ও ঈদের মতো উপলক্ষ্যগুলো প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুব রহমানের মতে, এই সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক, এবং এই টাকা আবার ব্যাংক ব্যবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেও ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল, যা ২ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই পরিমাণ কমতে শুরু করে, নভেম্বরে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। এই উঠানামার পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনসমূহ দায়ী বলে মনে করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন ও ধর্মীয় উৎসবের প্রভাব অর্থনীতিতে নগদ টাকার প্রবাহ ও প্রবাসী আয়কে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে, যা আগামী ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।



