বাংলাদেশ ব্যাংককে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাতে আলোচনা
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি বিষয়ক পরামর্শক ফারহানুল গণি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষে অংশ নেন এমা উইন্ড ও ইসাম মোসাদ্দেক।
সহযোগিতার বিভিন্ন দিক
বৈঠকে যুক্তরাজ্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেমেন্ট সিস্টেম উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময় ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টসহ আর্থিক খাত সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্য সরকার ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার
বৈঠকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসন্ন এফএটিএফ (ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স) মিউচুয়্যাল ইভ্যালুয়েশন, অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং ভিসা আবেদন সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাইয়ের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
গভর্নরের ধন্যবাদ ও অঙ্গীকার
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্য সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশে ক্যাশলেস সমাজ ও শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি আর্থিক খাতে সুশাসন ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



