দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকের গ্রাহকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের দাবির আড়ালে কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে কিনা—সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “গ্রাহকরা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গতভাবে আন্দোলন করতে পারেন। তবে কোনও অবস্থাতেই ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে কার্যক্রম ব্যাহত করা গ্রহণযোগ্য নয়।” এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
গণছাঁটাইয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে গণছাঁটাইয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিনা—তাও যাচাই করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চট্টগ্রামে গ্রাহকদের তালাবদ্ধ আন্দোলন
এদিকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের শাখায় তালা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। আমানত ও লভ্যাংশ ফেরতের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে চট্টগ্রামের সব শাখা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।
লেনদেন ব্যাহত, পুলিশ মোতায়েন
গ্রাহকদের এই বিক্ষোভের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।



