দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনের জটলা নেই। বলা হয়ে থাকে একসময় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ঈদের একমাত্র ভাবনার বিষয় ছিল এই মহাসড়ক। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে এই মহাসড়কে তেমন যানজট লাগেনি। তবে এবারের অন্য বছরের তুলনায় আরও উন্নত বলছেন যাত্রী, চালক ও সহযোগীরা।
মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা
মঙ্গলবার (২৬ মে) মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, নিমসার বাজার, চান্দিনা বাজার ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে, কোথাও যানজট নেই। তবে সকালে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করায় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দিলে আবার যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ছাড়াও বাজার গুলিতে যানবাহনের সামান্য চাপ পড়ে মাঝে মাঝে।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কুমিল্লায় আসা মিয়ামি পরিবহনের যাত্রী মরজিনা আক্তার, সাহাব উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেনসহ ৫জন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায়। বাসের দিকে ইশারা করে বলেন, এই বাসে আমরা এসেছি। দুই ঘণ্টার সামান্য বেশি সময় লেগেছে। কোথাও গাড়ি দাঁড়ায়নি। তবে দাউদকান্দি আর নিমসার বাজারে ধীরে চলতে হয়েছে।
এ সময় পাশে থাকা যাত্রী ইব্রাহীম খলিল বলেন, পূর্বে ভোরে ভোরে বাসে উঠতাম। আর কুমিল্লায় এসে বাস থামতো দুপুরে। টোলপ্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। আজ ১০ মিনিটে টোলপ্লাজা পার হয়েছি। বাজার গুলিতে গাড়ির গতিরোধ না হলে দেড় ঘণ্টায় আসতে পারতাম।
চালক ও পুলিশের মতামত
চট্টগ্রামগামী তিশা পরিবহনের চালক জিহাদ বলেন, সড়কে চাপ বেশি। কিন্তু যানজট নেই। বাজার গুলোতে মানুষ রাস্তা পারাপারের জন্য আর গাড়ি দাঁড়ানোর জন্য ধীরগতি হচ্ছে।
হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার অতিরিক্ত ডিআইজি শাহিনুর আলম বলেন, ঈদুল আজহায় মানুষের চাপ কম থাকে। কিন্তু তারপরও ছুটির পর থেকে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি। সড়ক পাহারায় আমাদের সঙ্গে স্কাউট ও বাড়তি জনবলও রয়েছে। তাদের ট্রেনিং করিয়েছি। তারা মহাসড়কের কাজের দায়িত্বে আছে। এ ছাড়াও আমার বিভিন্ন স্পটে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন সহযোগিতায় করছে। যানজট লাগার সম্ভাবনা দেখছি না। তবে বড় দুর্ঘটনার কথাতো নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না।



