জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে। সোমবার (২৫ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
ইসলামী ব্যাংকে হস্তক্ষেপের নিন্দা
বিবৃতিতে তিনি দেশের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের ওপর সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। জনগণের আস্থায় যাতে ফাটল ধরে সে লক্ষ্যে চেয়ারম্যানকেও পদচ্যুত করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে যাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর। তার মতো একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া খাল কেটে কুমির আনারই শামিল। জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের আড়াই লক্ষ কোটি টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদেরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে লুণ্ঠনের পথ প্রশস্ত করার জন্যই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে পদচ্যুত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দাবি ও হুঁশিয়ারি
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তার অপসারণ দাবি করেন। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অযোগ্য ও দলদাস গভর্নরকে অপসারণ করতে হবে এবং লুণ্ঠনকৃত অর্থ ফেরত আনতে হবে। কোনো একজন যোগ্য ও সৎ লোককে চেয়ারম্যান করে যোগ্য, মেধাবী, সৎ এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডকে পুনর্গঠন করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।



