সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতের চলমান সংকটের টেকসই সমাধান না হলে অর্থনৈতিক পতন রোধ করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট সমাধানে শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'দেশের ব্যাংক খাতের বিপর্যয়; ইসলামী ব্যাংকিং খাতের প্রেক্ষিত: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ' শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত সেমিনারে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সংকটের কারণ ও সমাধান
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাতে সমস্যা সৃষ্টিকারীদের ফিরিয়ে আনতে আইনে কেন নতুন ধারা যুক্ত হচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট এবং এই সংকট মোকাবিলায় শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
তার মতে, দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে, দুর্নীতিগ্রস্ত নীতি-প্রণয়ন প্রক্রিয়া সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, আমানতকারীরা নীরবে ভুগছেন, অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে; বিনিয়োগ কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে, সাম্প্রতিক পরিবর্তন সংকট সমাধানের সুযোগ তৈরি করেছে এবং নৈতিকতার উচ্চ মানদণ্ডের মাধ্যমে সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে।
অনেক আমানতকারী ব্যাংক থেকে তাদের টাকা তুলতে পারছেন না। গ্রাহকের আস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের দিক থেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়াতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বেকারত্বের সমস্যা সমাধান না হলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সচিবের বক্তব্য
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সচিব বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই খাতে লুটপাটের কারণে অর্থনীতি আজ বিপর্যয়ের মুখে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংক দখল ও অনিয়মের ঘটনা এতটাই নাটকীয় যে তা নিয়ে থ্রিলার সিনেমা বানানো সম্ভব।
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বক্তব্য
সেমিনারে বক্তব্য রাখা ইসলামী ব্যাংকের কিছু গ্রাহক ও পেশাজীবী অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এর জন্য পরিকল্পিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
তারা বলেন, মাত্র ২% শেয়ার দিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ। বক্তারা এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা সতর্ক করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আবারও সংকট দেখা দিলে এবার গ্রাহকরা প্রতিরোধ করবেন।



