সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
রাষ্ট্রপতির শোকবার্তা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক শোকবার্তায় বলেন, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ দেশের একজন বিশিষ্ট আইনবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার মৃত্যুতে দেশের আইন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। রাষ্ট্রপতি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় বলেন, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ একজন সৎ, সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। তিনি প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের সেবা করেছেন। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শাহাবুদ্দিন আহমদের জীবনী
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পদত্যাগের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



