ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব কার্ড ডিভিশন মো. এহতেশামুল হক খানের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে দেশের বৃহৎ এটিএম ও কার্ড নেটওয়ার্কের অভিজ্ঞতা, ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরিতে নেক্সাসপের ভূমিকা, গ্রামীণ ব্যবসায়ীদের কার্ড গ্রহণে ভীতি দূর করার উদ্যোগ, নতুন নীতিমালার প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ কার্ড সেবা এবং নারী ও প্রবীণদের আগ্রহের চিত্র।
এটিএম ও কার্ড নেটওয়ার্কের অভিজ্ঞতা
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শহরাঞ্চল থেকে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই বিস্তৃত এটিএম ও সিআরএম নেটওয়ার্কের কারণে সাধারণ মানুষ সহজে কার্ড ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে। কার্ড সেবাকে সাধারণের নাগালে এনে বিপুলসংখ্যক মানুষকে মূলধারার আর্থিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক গ্রাহক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সুবিধা উপভোগ করছেন।
নেক্সাসপে ও ক্যাশলেস সোসাইটি
শুরুতে এটিএমকেন্দ্রিক সেবা থাকলেও এখন তা বাংলা কিউআর, পস ও ই-কমার্স লেনদেনে বিস্তৃত হয়েছে। নেক্সাসপে অ্যাপ ক্যাশলেস পেমেন্টের ক্ষেত্রে গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা কার্ড ছাড়াই মোবাইল দিয়ে কিউআরভিত্তিক কেনাকাটা ও দ্রুত লেনদেন করতে পারছেন। শক্তিশালী ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক একটি শক্তিশালী ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে।
গ্রামীণ ব্যবসায়ীদের কার্ড ভীতি দূরীকরণ
প্রযুক্তির জটিলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা নগদ লেনদেনে বেশি আগ্রহী। এই ভীতি কাটাতে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত সহজ। প্রতিটি লেনদেনের পর তাৎক্ষণিক এসএমএস নোটিফিকেশন তাদের আস্থা বাড়াচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের ফলে এই রূপান্তর আরও দ্রুত হবে।
নতুন নীতিমালার প্রভাব
নতুন নীতিমালা কার্ড পেমেন্টে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ইএমভি চিপ এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন জালিয়াতির ঝুঁকি কমিয়েছে। কন্ট্যাক্টলেস বা এনএফসি প্রযুক্তির মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পিন ছাড়াই দ্রুত পেমেন্ট সম্ভব হচ্ছে, যা সময়সাশ্রয়ী। এর বেশি অঙ্কের লেনদেনে পিন বাধ্যতামূলক হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকছে। নিরাপত্তা ও গতির এই ভারসাম্য গ্রাহককে ডিজিটাল লেনদেনে আরও উৎসাহিত করবে।
তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ কার্ড সেবা
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডের অধীন ক্ল্যাসিক, গোল্ড, টাইটেনিয়াম, সিগনেচার ও ওয়ার্ল্ড কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড সেবা দিচ্ছে। তরুণদের জন্য কার্ডে ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’ সুবিধা রাখা হয়েছে। নেক্সাসপে অ্যাপের ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জ এবং অনলাইনে কেনাকাটা করা যায়। বছরজুড়ে বিভিন্ন ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার তরুণদের লাইফস্টাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্টুডেন্ট প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয় ও ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করা হচ্ছে।
নারী ও প্রবীণদের আগ্রহ
কার্ড ব্যবহারের চিত্র বদলে গেছে। ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ, ক্রেডিট কার্ডে ৩২ শতাংশ ও প্রিপেইড কার্ডে ১৩ শতাংশ নারী। নারীদের জন্য ‘ফেমিনা প্রিপেইড কার্ড’ ও প্রবীণদের জন্য ‘লিজেন্ড ডেবিট কার্ড’ চালু করা হয়েছে। প্রবীণেরা কার্ড ব্যবহার করে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা, হেলথ চেকআপ এবং মিট অ্যান্ড গ্রিট-এর মতো প্রিমিয়াম সুবিধা পাচ্ছেন। নারীদের কার্ডে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে।
বর্তমান কার্ড গ্রাহক সংখ্যা
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বর্তমানে ইস্যু করা মোট কার্ডের সংখ্যা ১ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। গ্রাহকেরা ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে দেশজুড়ে নিরাপদে এই কার্ডগুলো ব্যবহার করছেন এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সেবা যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।



