ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। আগামী ২৭ জুনের মধ্যে দাবি মানা না হলে সারা দেশের গ্রাহকদের ঢাকায় এনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হয়েছে
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য গত ১ জুন থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে এই ফোরাম। ইতোমধ্যে তারা মানববন্ধন, একাধিক সংবাদ সম্মেলন এবং অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে বিশেষ বৈঠক করে ৭ দফা দাবিও পেশ করা হয়েছে।
এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ফোরামের অভিযোগ, এস আলম হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার উপযোগী কোনো সৎ, যোগ্য ও পেশাদার লোক খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি বলেন, সচেতন গ্রাহক ফোরাম কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন নয়, বরং সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা ও ব্যাংকের ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার আশঙ্কা
ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা না ফিরলে রেমিট্যান্স হুন্ডি হয়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও আমদানি ব্যয় পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যান্য নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিশেষ পরিবারের সম্পদ নয়; এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সাথে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
সাত দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে সৎ, যোগ্য ও স্বাধীন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন; প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া; ব্যাংক লুটের অভিযোগের বিচার করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, এস আলম গ্রুপের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট ঋণ অনিয়মের তদন্তে আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানানো হয়।



