মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে একটি দ্বৈত বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে ছয়জন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মানববন্ধন করেন, এরপরপরই ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ একটি পাল্টা কর্মসূচি পালন করে।
গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের তীব্র প্রতিবাদ
গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘ব্যাংক দখল বন্ধ করো’, ‘কালো আইন বাতিল করো’ এবং ‘এস আলম নো মোর’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। সমাবেশে পরিষদের সভাপতি নুরুন নবী পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে ১৫ দিনের একটি ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রধান দাবিসমূহ
তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- এস আলমসহ কথিত ব্যাংক লুটেরাদের গ্রেপ্তার
- দেশীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা
- বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনা
- ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে যুক্ত ১৮/ক ধারা বাতিল
- পূর্বের মালিকদের কাছে ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া
পরিষদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৮/ক ধারা লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করছে। এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে ব্যাংক দখলের চেষ্টা ও মব সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন কোনো গোষ্ঠীকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
১৫ দিনের কর্মসূচির পরিকল্পনা
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ দিনে জনমত গড়ে তুলতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে:
- লিফলেট বিতরণ
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
- বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দাবি ছড়িয়ে দেওয়া
- সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ
- জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও সেমিনার আয়োজন
এই ঘটনাটি ইসলামী ব্যাংকের চলমান সংকট ও শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের ভূমিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



