পরিচালন মুনাফা থাকলেই বোনাস দিতে পারবে ব্যাংক
পরিচালন মুনাফা থাকলেই বোনাস দিতে পারবে ব্যাংক

নিট মুনাফা অর্জন না করলেও এখন থেকে কেবল পরিচালন মুনাফা (অপারেটিং প্রফিট) অর্জন করলেই ব্যাংকগুলো তাদের কর্মীদের উৎসাহ বোনাস (ইনসেনটিভ বোনাস) দিতে পারবে। এই ক্ষেত্রে আগের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে না পারলেও পরিচালন মুনাফা থাকলে কর্মীদের বোনাস দেওয়া যাবে। এমনকি মূলধন ঘাটতি থাকলেও বোনাস প্রদানে বাধা থাকবে না, তবে শর্ত হচ্ছে— সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মূলধন আগের বছরের তুলনায় কমে যাওয়া চলবে না। একইসঙ্গে যেসব ব্যাংকের ডেফারেল সুবিধার প্রয়োজন নেই, তারাও এই সুবিধার আওতায় আসবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আলোচনার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ বোনাস হিসেবে অনুমোদন দিতে পারবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী নির্দেশনা

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জারি করা এক নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, নিট মুনাফা অর্জন করতে না পারা ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে না। পাশাপাশি মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও বোনাস প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনার ফলে অনেক ব্যাংকের কর্মীদের বোনাস আটকে যায়।

ব্যাংকারদের মতামত

ব্যাংকারদের মতে, সাধারণত অর্থবছর শেষে অধিকাংশ ব্যাংককর্মীদের উৎসাহ বোনাস প্রদান করে থাকে। তবে আগের কড়াকড়ির কারণে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকের কর্মীরাই শুধু বোনাস পাচ্ছিলেন, যা অন্যান্য ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জানা গেছে, সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) গভর্নরের কাছে এ বিধিনিষেধ শিথিলের দাবি জানায়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে বোনাস বন্ধ থাকলে দক্ষ জনবল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, উৎসাহ বোনাস না থাকলে দক্ষ কর্মীরা দুর্বল ব্যাংক ছেড়ে অন্যত্র চলে যান, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আরও চাপে ফেলে। মূলত এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।