বাংলাদেশ ব্যাংক আবারো ৬০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত নিলামে প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা দরে এই ডলার ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।
গত সপ্তাহেও ডলার ক্রয়ের ধারা অব্যাহত
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দুই দিনে একই দরে মোট ১২০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। এই ধারাবাহিক ডলার সংগ্রহ উদ্যোগের ফলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিতে দেশীয় মুদ্রা (টাকা) এর লিকুইডিটি প্রবাহও বাড়ছে।
রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন ডলার কেনার পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতামত: রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন ডলার ক্রয় উদ্যোগ রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতাও শক্তিশালী করছে। তবে একই সময়ে, বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে মুদ্রানীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সতর্ক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অতিরিক্ত ডলার ক্রয়ের ফলে দেশীয় মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই লেনদেন ব্যাংকিং খাতের লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনাকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা জরুরি।



