যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামো বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ বাজার।
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এই নীতির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পোশাক রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাস্তবায়িত হলে আমাদের রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বাংলাদেশের পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরে ৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাস্তবায়িত হলে এই রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রাম্পের নীতি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্যও হুমকি। তবে বাংলাদেশের পোশাক খাত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেমন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন।
প্রতিকারের উপায়
বাংলাদেশ সরকার ও পোশাক শিল্পের নেতারা ট্রাম্পের শুল্ক নীতি মোকাবিলায় বিকল্প বাজার খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানের মতো বাজারগুলিতে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই বিকল্প বাজার খোঁজার কাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি, পোশাকের গুণগত মান ও ডিজাইনে আরও উন্নতি আনার চেষ্টা করছি যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের অবস্থান ধরে রাখা যায়।”



