শুল্ক ফাঁকি দিতে 'লাল ঘাস' ঘোষণা দিয়ে জব্দ ৮ কোটি টাকার জাফরান
শুল্ক ফাঁকি দিতে 'লাল ঘাস' ঘোষণা দিয়ে জব্দ জাফরান

শুল্ক ফাঁকি দিতে 'লাল ঘাস' ঘোষণা দিয়ে জব্দ ৮ কোটি টাকার জাফরান

শুল্ক বিভাগ একটি বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা প্রতিহত করে 'রেড গ্রাস' বা লাল ঘাস ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৮ কোটি টাকার জাফরান জব্দ করেছে। এই ঘটনাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ঘটেছে, যেখানে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সতর্ক নজরদারির মাধ্যমে পণ্যটি আটক করা হয়।

জব্দের বিবরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া

গত ৮ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পানামা পোর্ট লিংকের ইয়ার্ড থেকে ২০০ কেজি পণ্য জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার চকবাজারের মেসার্স তোহা-তাসু লিমিটেড নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'পার্টস অব প্যান্টস' শুল্ক কোডের অধীনে 'রেড গ্রাস' ঘোষণা দিয়ে পণ্যটি ভারত থেকে আমদানি করে। একটি ভারতীয় ট্রাকে পণ্যটি পোর্ট অপারেটর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের ইয়ার্ডে আসে এবং মেসার্স সূচি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পণ্যটি খালাসের দায়িত্বে ছিল।

শুল্ক কর্মকর্তারা সন্দেহজনক কার্যকলাপ টের পেয়ে পণ্যটির খালাস স্থগিত করেন। পরদিন ৫ এপ্রিল পণ্যটির কায়িক যাচাই করা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৮ এপ্রিল এটি জব্দ করা হয়। পণ্যটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে ৯ এপ্রিল এর নমুনা রাজশাহী বিভাগীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারে পাঠানো হয়। ১৩ এপ্রিল গবেষণাগার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে যে, 'রেড গ্রাস' নামে ঘোষিত পণ্যটি আসলে উচ্চমানের জাফরান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

জব্দকৃত ২০০ কেজি জাফরানের শুল্ক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা অনুমান করা হচ্ছে। তবে 'রেড গ্রাস' হিসেবে পণ্যটি ছাড় হলে শুল্ক বিভাগ মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব পেত, ফলে প্রায় দুই কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি যেত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শুল্ক কর্মকর্তা জানান। সোনামসজিদ স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন ইনচার্জ সহকারী কমিশনার সাব্বির রহমান জিসান বলেন, 'জাফরানের শুল্কহার অনেক বেশি এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।'

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সূচি এন্টারপ্রাইজের মালিক আলমগীর হোসেন দাবি করেন যে পণ্যটি জাফরান নয়, বরং প্রকৃতই 'রেড গ্রাস' এবং গবেষণাগার থেকে ভুল প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আমদানিকারক পুনঃপরীক্ষার আবেদন করবেন। অন্যদিকে, রাজশাহী বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, 'নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি রেড গ্রাস নয়, বরং উচ্চমানের জাফরান এবং আমাদের পরীক্ষার ফলাফল সঠিক।'

বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

রাজশাহী বিভাগীয় শুল্ক কমিশনার মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বা প্রতিনিধিকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পণ্যটির আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পণ্যটির খালাস বর্তমানে স্থগিত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের শুনানি বিভাগীয় শুল্ক কমিশনারের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।

এই ঘটনা শুল্ক বিভাগের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আমদানি-রপ্তানি খাতে দুর্নীতি রোধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়। দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।