মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত: ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে জাহাজ এসেছে
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে চলছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে 'এমটি শান গাং ফা জিয়ান' নামের একটি জাহাজ ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সফলভাবে পৌঁছেছে। এই তেল সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড, যা বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিপিসির পরিকল্পনা ও চাহিদা
জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। এই চাহিদা মেটানোর জন্য এ মাসে আরও সোয়া তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এপ্রিলে এখন পর্যন্ত দুটি জাহাজ ডিজেল নিয়ে এসেছে:
- প্রথম জাহাজটি গতকাল শুক্রবার বেলা ২টায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে পৌঁছেছে, যা ইউনিপ্যাকই সরবরাহ করেছে।
- দ্বিতীয় জাহাজটি হলো 'এমটি শান গাং ফা জিয়ান', যা ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে রাত ২টায় এসেছে।
এই সরবরাহগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে, বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব ও সরকারের পদক্ষেপ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি আমদানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেশ কয়েকটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে না পারায় সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি হয়েছিল।
এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বিপিসি সরকারের নির্দেশনায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা।
বিপিসির বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, 'সর্বশেষ জাহাজটি এসে পৌঁছেছে। এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খালাস কার্যক্রম শুরু হবে।' তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া নিয়মিত ও দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের এই সক্রিয় উদ্যোগ এবং বিপিসির কার্যকরী ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মতো বৈশ্বিক সংকটেও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।



