যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এলএনজি আমদানিতে সরকারের অনুমোদন
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুসরণ করে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এই আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বেশি, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত তথ্য
বুধবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসারে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের মের্সাস টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।
২০২৬ সালের ৫-৬ এপ্রিল সরবরাহযোগ্য এই (৫ম) কার্গো এলএনজির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকা। এতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২১ দশমিক ৫৮ মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানির অনুমোদন
একই প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুটি কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৯-১০ এপ্রিল সরবরাহযোগ্য (৬ষ্ঠ) কার্গোর জন্য ব্যয় হবে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা, যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ মার্কিন ডলার।
একই কোম্পানি থেকে ১২-১৩ এপ্রিল সরবরাহযোগ্য (৭ম) আরেকটি কার্গো এলএনজি আমদানিতেও একই পরিমাণ ব্যয় ধরা হয়েছে—৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। এ ক্ষেত্রেও প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২০ দশমিক ৭৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করছে।
অন্যান্য আমদানির অনুমোদন
এদিকে, বৈঠকে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি পাম অয়েল ও রাইস ব্র্যান তেল আমদানির প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই সিদ্ধান্তগুলি দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
সরকারের এই পদক্ষেপটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার কঠোর অনুসরণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।



