বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও মজুত স্থিতিশীল, কৃত্রিম সংকটে কঠোর ব্যবস্থা
দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল রয়েছে এবং এ বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইসঙ্গে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অসাধু কারসাজি সরকারের পক্ষ থেকে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে মন্ত্রীর বক্তব্য
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিস্তারিতভাবে তার অবস্থান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে সার্বিক দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের কোনো ঘাটতি বা সংকটের লক্ষণ নেই।
জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও বাজারে তার প্রভাব
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি সাধারণ ট্রাক প্রায় ১০ টন পণ্য পরিবহনের জন্য গড়ে ৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, ফলে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪৫০ টাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের প্রভাব খুবই সীমিত এবং নগণ্য।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে, সেখানে বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের বড় একটি অংশ খাদ্য ও বাসাভাড়ায় ব্যয় হলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এই খাতে সীমিত থাকবে। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে চালু রয়েছে।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে পণ্যের মূল্য বাড়ান বা ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয়ভাবে মজুত শুরু করেন, তাহলে বাজারে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সরকার এই বিষয়ে কঠোরভাবে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, "এটি ১৮ কোটি মানুষের দেশ। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বাজারকে জিম্মি করতে পারবে না।"
সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি
সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও খোলা তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা সরকারের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্পেকুলেশন বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে বাজারকে প্রভাবিত করার কোনো প্রচেষ্টা করা যাবে না। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব বিবেচনায় রেখেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হবে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা: স্থায়ী মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা
তিনি আরও জানান, সরকার ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়, যাতে বাজার আরও স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ থাকে। এই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহিম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



