যমুনা সেতুর ওপর কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পূর্ব অংশের টাঙ্গাইলেও। আজ শুক্রবার ভোর থেকে সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে সিরাজগঞ্জের কড্ডা পর্যন্ত এ যানজট দেখা দেয়।
যানজটের কারণ ও পরিস্থিতি
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ভোরে সেতুর ঢাকামুখী লেনে অন্তত পাঁচটি যানবাহন পর্যায়ক্রমে বিকল হয়ে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকল যানবাহনগুলোর মধ্যে ছিল বাস ও অন্যান্য ভারী যান। এতে সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান বলেন, 'সকাল সাড়ে সাতটায় বগুড়া থেকে রওনা দিয়েছি। যানজটের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সয়দাবাদ এলাকায় আটকে আছি। কিছুক্ষণ পরপর সামান্য করে সামনে এগোতে পারছি।'
ঢাকাগামী এসআই পরিবহনের যাত্রী আশিস বিপ্লব বলেন, 'সকালে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। শুনেছি, যমুনা সেতুর ঢাকামুখী লেনে কয়েকটি যানবাহন বিকল হওয়ায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, জানি না। তীব্র গরমে বাসের ভেতরে বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।'
প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগ
প্রচণ্ড গরমে অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে মহাসড়কের পাশে হাঁটাহাঁটি করেন এবং কেউ কেউ ছবি তোলেন মুঠোফোনে। আজ বেলা ১১টার দিকে সয়দাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে দীর্ঘ সারিতে আটকে আছে হাজারো যানবাহন। অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে পাশের গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ কেউ পানীয় জল কিনে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন।
যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র সূত্রধর বেলা সোয়া ১১টার দিকে বলেন, বিকল তিনটি যানবাহন ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো সেতুর পশ্চিম পাশে কড্ডা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট আছে। অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়া এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।



