পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের উত্তর গোয়ালপাড়া এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে একটি শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন পিটিয়ে একটি শিয়ালকে মেরে ফেলেছেন।
আহত ব্যক্তিরা কারা?
আহত ব্যক্তিরা হলেন উত্তর গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৪৫), বেলাল হোসেন (৪২), মফিজ উদ্দিন (৫০), আবদুর রাজ্জাক (৫১) এবং একই এলাকার জাফরুল ইসলামের মেয়ে জুঁই আক্তার (৫)।
আহত ব্যক্তিদের সবাইকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন ও জুঁই আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য তিনজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ঘটনার বিবরণ
আহত শিশু জুঁই আক্তারের বাবা জাফরুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মেয়ে জুঁই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে একটি শিয়াল দৌড়ে এসে শিশুটিকে খামচে ধরে গালে-মুখে কামড় দেয়। শিশুটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে শিয়ালটি তাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাঁরা জুইকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কামড়ের আঘাতের পাশাপাশি শিশুটি খুব বেশি ভয় পেয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দুপুরে প্রতিবেশী একটি বাচ্চাকে (শিশুকে) শিয়াল কামড়ানোর পর বিকেলে বাড়ির পাশে আমাদের একটা ছাগলকে শিয়াল কামড়াচ্ছিল। এ সময় আমি শিয়ালটিকে তাড়াতে গেলে শিয়ালটি আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি দাঁড়ানো অবস্থায় শিয়ালটা আমার চোখের নিচে গালে একাধিক জায়গায় কামড় দেয়। এ সময় আমার চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে শিয়ালটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে আরও তিনজনকে কামড় আর আঁচড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমাদের চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে শুনেছি, শিয়ালটাকে স্থানীয় লোকজন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার মনে হয়, কামড়ানোর ঘটনায় দুইটা শিয়াল ছিল।’
চিকিৎসকের পরামর্শ
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত একটি শিশুসহ পাঁচজন হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন। অন্য তিনজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মুখ, কান ও গলায় আঘাত পেয়েছেন। এ সময়ে শিয়ালের আক্রমণ থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।



