বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ে মিসরের একটি গোল বাতিলকে কেন্দ্র করে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ৬২তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোর করা গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে সাবেক রেফারি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে।
গ্রাহাম স্কটের মত: ভুল সিদ্ধান্ত
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক অফিশিয়াল গ্রাহাম স্কট ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাঁর মতে, গোলের আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও মারওয়ান আত্তিয়ার মধ্যে সংঘর্ষটি ছিল ‘খুবই স্বাভাবিক কনট্যাক্ট’ বা শারীরিক লড়াই, যা ফাউল হিসেবে গণ্য করা উচিত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল, ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। ভিএআর হস্তক্ষেপ করে গোল বাতিল করায় মিসরের ক্ষোভ স্বাভাবিক।’
স্কট আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে পায়ের ওপর পা রাখা ও জার্সি টানা সামান্য ঘটনা ছিল, কিন্তু তা ভিএআর হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অপরাধ নয়।’ তিনি মনে করেন, ভিএআর সীমালঙ্ঘন করেছে এবং প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণের পর্যায় খতিয়ে দেখার সময় স্পষ্ট ফাউল না থাকায় গোল বাতিল করা উচিত হয়নি।
ক্ল্যাটেনবার্গের সমালোচনা: ধারাবাহিকতার অভাব
সাবেক ফিফা রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেফারি ও ভিএআর উভয় সিদ্ধান্তের সঙ্গেই দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি ফাউল ছিল এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল না।’ তিনি টুর্নামেন্টে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতার অভাবের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘আগের ম্যাচগুলোতে একই ধরনের ঘটনায় ভিএআর এত চুলচেরা বিশ্লেষণ করেনি। মাঠের রেফারি যখন সিদ্ধান্ত দিয়েই দিয়েছেন, তখন ভিএআরের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই। এটি স্পষ্ট ফাউল ছিল না।’
ক্ল্যাটেনবার্গ আরও বলেন, ‘ভিএআর একটু বেশিই চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে এবং মিসরের গোল বাতিল করতে তারা যেন ম্যাচের মধ্যে খুঁত খুঁজেছে।’ তিনি আর্জেন্টিনার পক্ষে সিদ্ধান্ত যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অনেকে এটিকে ভিএআরের অন্যায্য হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখবেন বলে মন্তব্য করেন।
জো মাচনিকের ভিন্ন মত: নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত
তবে ফক্স স্পোর্টসের ফুটবল রেফারিং বিশেষজ্ঞ ডক্টর জো মাচনিকের ধারণা ভিন্ন। তিনি ‘ওয়ার্ল্ড কাপ নাও’ অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা দেন যে, যেহেতু ঘটনাটি ফাউল ছিল, তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক। তাঁর ভাষায়, ‘ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী, ফাউলের সূত্র ধরে গোল হলে তা বৈধ নয়। ফাউল ও গোলের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বা সময়সীমা নেই; যতক্ষণ প্রতিপক্ষ বলের নিয়ন্ত্রণ না পায়, ততক্ষণ ফাউলের মাধ্যমেই আক্রমণ হয়েছে বলে ধরা হয়। এটি পুরোপুরি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।’
মাচনিক আরও বলেন, ‘গোলের আগে আক্রমণাত্মক মুহূর্তে কোনো দলের খেলোয়াড় ফাউল করলে তা রিভিউ করার অনুমতি রয়েছে। এখানে আত্তিয়ার চ্যালেঞ্জটি ফাউল ছিল, তাই ভিএআর সঠিকভাবেই হস্তক্ষেপ করেছে।’
আইএফএবির নিয়ম ও ভিএআর প্রটোকল
আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী, গোল হওয়ার ঠিক আগের আক্রমণাত্মক মুহূর্তে কোনো ফাউল বা নিয়মভঙ্গ হলে তা রিভিউ করা যাবে। নিয়মে বলা হয়েছে, ‘ঘটনার আগের ও পরের খেলার সময়কাল ফুটবলীয় আইন ও ভিএআর প্রটোকল দ্বারা নির্ধারিত হবে।’ ফক্স স্পোর্টসের বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেও, মাচনিকের মতে এটি নিয়ম মেনেই প্রয়োগ করা হয়েছে।
ম্যাচ শেষে মিসরের পক্ষ থেকে রেফারিং তদন্তের দাবি উঠেছে, তবে ফিফা এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।



