পুরো বিশ্বের কোটি মানুষের চোখ এখন ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে। সেই ম্যাচে একবিন্দু ভুল মানেই কোটি মানুষের চক্ষুশূলে পরিণত হওয়া। তাই ফিফার লক্ষ্য থাকে বিশ্বকাপকে যতটা সম্ভব নির্ভুল রাখা যায়। তাই তো বিশ্বকাপে দেখা মেলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির। কোন কোন নতুন প্রযুক্তির আগমন ঘটছে এবারের বিশ্বকাপে? দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
সেমি-অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি
একটা সময় ছিল যখন অফসাইডের সিদ্ধান্তের জন্য ভরসা রাখতে হতো লাইন্সম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর। চোখের ভুলে এমন কত গোল পাশ কাটিয়ে গেছে তার ইয়ত্তা নেই। এবার সে রকম কোনো সুযোগই নেই। পুরো বিশ্বকাপেই থাকবে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি। মাঠের চারপাশে থাকা ক্যামেরাগুলো প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শরীরের ২৯টি পয়েন্ট ট্র্যাক করবে প্রতিমুহূর্তে। প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার মিলিয়ে দেখা হবে ফুটেজ। ফলে একটু এদিক–সেদিক হলেই খেলোয়াড় অফসাইডে গেলেই বেজে উঠবে সংকেত।
ফুটবল মাঠে এআই
বিশ্বজুড়ে এআই এখন ব্যাপক আলোচিত। বিশ্বকাপ কেন পিছিয়ে থাকবে? এবারে বিশ্বকাপেও থাকছে এআইয়ের ব্যবহার। ম্যাচজুড়ে খেলোয়াড়দের স্ক্যান করে তৈরি করা হবে থ্রি-ডি ডিজিটাল অ্যাভাটার। এতে ভিএআর রিভিউর সময় জটিল কোনো সিদ্ধান্ত নিতে খুব একটা বেগ পোহাতে হবে না রেফারিদের। আর ম্যাচ–পরবর্তী অ্যানালাইসিসও নতুন প্রাণ পাবে।
বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ রেফারির বডি ক্যামেরা
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ রেফারির বডি ক্যামেরা। এত দিন টিভি পর্দায় আমরা শুধু মাঠের বাইরে থেকে নেওয়া ক্যামেরা কিংবা ড্রোন শট দেখতে পেতাম। এবার চাইলে রেফারি কীভাবে ম্যাচ দেখছেন, সেটাও দেখতে পারবে। লা লিগা ও প্রিমিয়ার লিগে ইতিমধ্যে এই ক্যামেরা দেখা গেছে। বিশ্বকাপেও সেটা স্পষ্ট হবে। রেফারির চোখেই দেখতে পারবে, মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কত কঠিন।
বলের ভেতর তথ্যের ঘাঁটি
এবারের ম্যাচ বল ‘ত্রিয়োন্দা’কে বলা হচ্ছে ‘দ্য কানেক্টেড বল’। বলের ভেতর বাতাস থাকার দিন শেষ, বলে এখন থাকে লাইভ অ্যাকটিভ সেন্সর। বল কখন পায়ে স্পর্শ করল, কত গতিতে করল, কে করল, কতটুকু জোরে শট মারা হলো—সবকিছুই এখন দেখা যাবে এক ক্লিকেই। আগে এসব তথ্য শুধু ফিফা নিজের কাছে রাখতে পারত। কিন্তু এই বিশ্বকাপে সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে দলগুলোর জন্য। তারাও চাইলে দেখতে পারবে, কখন কী হচ্ছে মাঠে। অফসাইড থেকে শুরু করে গোল—সবকিছুর লাইভ আপডেট পাওয়া যাবে প্রতি মিলিসেকেন্ডে।
এ তো গেল বিশ্বকাপে যুক্ত হওয়া নতুন প্রযুক্তি। আগে থেকেই থাকা গোললাইন প্রযুক্তি, ভিএআর আর টাইম কাউন্টার তো থাকছেই। অনেকেই বলে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নাকি ফুটবল হয়ে উঠছে আরও বেশি রোবটিক। কিন্তু ১ মিলিমিটারের এদিক–সেদিক যেখানে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে, সেখানে ভুলের কোনো সুযোগই নেই। ফিফার বিভিন্ন প্রযুক্তি সেটাকেই নিশ্চিত করছে শুধু।



