বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বকে চমকিয়ে দিয়েছে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গোর মতো দেশগুলো। তারা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে। দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ভোজিনহা, অরল্যান্ডো গিল, লিওনেল এমপাসিরা।
কেপ ভার্দের ভোজিনহা: ৪০ বছর বয়সে অনুপ্রেরণা
কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা ৪ ম্যাচে ৮টি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন। তার মধ্যে স্পেনের বিরুদ্ধে ৭টি সেভ ছিল। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৮বার বল বাঁচিয়েছেন। তার কাছে আটকেছেন লিওনেল মেসিও। ৪০ বছর বয়সি গোলকিপার বহু মানুষের কাছে এখন অনুপ্রেরণা। মেসিদের কাছে গোল হজম করার পর যখন দলের সবাই হতাশায় নুয়ে পড়েছেন, তখন তাদেরকে তুলে ধরেন ভোজিনহা।
কুরাসাওয়ের এলয় রুম: ১৫ সেভে রেকর্ড
জার্মানির কাছে ৭ গোল খেয়েছিল কুরাসাও। তারপর ড্র করেছে এবারের বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে। ১৫টি সেভ করে রেকর্ড গড়েছেন এলয় রুম। বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট ঘরে তোলে ক্যারিবিয়ান দ্বীপটি। তবে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি কুরাসাও।
জার্মান-বধের নায়ক অরল্যান্ডো গিল
জার্মান-বধের নায়ক অরল্যান্ডো গিল। রাউন্ড অফ ৩২-এ শুধু দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠাই নয়, টাইব্রেকারেও দুটি শট বাঁচিয়ে চারবারের বিশ্বজয়ীদের এবারের প্রতিযোগিতা থেকে সোজা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন একা গিল। কিন্তু একসময় সদ্যজাত সন্তানের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করেছিলেন নিজের জার্সি, বুট সহ একাধিক ক্রীড়া সরঞ্জাম। বছর চারেক আগে এতটাই অর্থ কষ্টে পড়তে হয়েছিল। জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ সেরার ট্রফি অসুস্থ ভাইপোকে উৎসর্গ করেছিলেন।
ইরানের আলিরেজা: দারিদ্র্য থেকে বিশ্বমঞ্চে
বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ইরানের। সাত সেভে দলের নায়ক ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার আলিরেজা। ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের দরিদ্র যাযাবর কুর্দি লাক পরিবারে জন্ম। ছোটবেলা কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। স্বপ্নপূরণ করতে মরিয়া আলিরেজা কিশোর বয়সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে তেহরান রওনা দেন। দুই বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন। কখনও গাড়ি ধোয়া, টায়ার পরিষ্কারের কাজ। তাঁর হাতে আটকে যান ডি'বুইনে, লুকাকুরা।
ঘানার বেঞ্জামিন আসারে: ফিফার আর্থিক প্রণোদনা
বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ ৩২-এ কলম্বিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ঘানার। এই ম্যাচে খেলেছেন লরেন্স আলি জিঘি। তবে মাঝে খেলেছেন বেঞ্জামিন আসারে। তাঁর হাতেই আটকে যায় ইংল্যান্ড। ঘানার ক্লাব ‘হার্টস অফ ওক’ দলে খেলেন তিনি। কোনও ক্লাব যদি প্লেয়ারকে বিশ্বকাপের জন্য ছাড়ে, তাহলে সেই ক্লাবকে ফিফা প্রত্যেকদিন প্লেয়ারপিছু ১১ হাজার ডলার দেয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। সেই জন্যই আসারেকে সুযোগ দেওয়া হয়।
ডিআর কঙ্গোর লিওনেল এমপাসি
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে মূলপর্বে খেলতে এসেই রুখে দিয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। সেখানে নায়ক ছিলেন গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। এরপর ইংল্যান্ডও বারবার আটকে যায় কঙ্গোর গোলকিপার এমপাসির হাতে। অন্তত তিনটে নিশ্চিত গোল আটকান। এছাড়া নাম নেওয়া যায় চেক প্রজাতন্ত্রের মাতেজ কোভার বা আইভরি কোস্টের এডোয়ার্ড মেন্ডি।
মেক্সিকোর ওচোয়ার বিদায়
আরেকজনের কথা না বললেই নয়। বিশ্বকাপ মানেই গিলেরমো ওচোয়া। মেক্সিকোর এই গোলকিপার বিশ্বকাপের সময় 'উদয়' হয়ে অসাধারণ পারফর্ম করতেন। এবার প্রথম একাদশে ছিলেন না। এবারই অবসর নিলেন তিনি। তৃতীয় ম্যাচে চেক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে ৭৭ মিনিটে প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচ শেষে গোলপোস্টে চুমু খেয়ে বিদায় জানান ওচোয়া। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও দলের সদস্যরা তাঁকে আবেগঘন ‘ফেয়ারওয়েল’ দেন।



