বিশ্বকাপের নকআউটে অস্ট্রেলিয়া-মিশর: ইতিহাস বনাম পুনর্জাগরণ
বিশ্বকাপের নকআউটে অস্ট্রেলিয়া-মিশর: ইতিহাস বনাম পুনর্জাগরণ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১২টায় ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। দুই ভিন্ন মহাদেশের দলটি প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। একদিকে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ৩২-এ উঠে ইতিহাস গড়তে চায়, অন্যদিকে মিশর আফ্রিকার সফল দল হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মিশনে নামছে।

অস্ট্রেলিয়ার পথচলা

২০০৬ সালে প্রথমবার শেষ ষোলোয় ওঠার পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া আবারও নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১, প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে। শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হারলেও ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়। তিন ম্যাচে ৩ গোল করেছে, হজম করেছে মাত্র ২টি।

অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের মূল ভরসা মিচেল ডিউক, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলের আস্থার প্রতীক। অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ান অভিজ্ঞতায় ভরপুর। মাঝমাঠে জ্যাকসন আরভিন ও আইডেন ও’নিল ছন্দ ধরে রেখেছেন। তরুণ নেস্টোর ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ গতি ও সাহসিকতা নিয়ে খেলছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিশরের পুনর্জাগরণ

সাতবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী মিশর বিশ্বকাপে কখনোই নিজেদের পুরোটা দেখাতে পারেনি। এবার গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ ড্র, নিউজিল্যান্ডকে ২-১ হারিয়ে ও ইরানের সঙ্গে ১-১ ড্র করে ৫ পয়েন্টে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। তিন ম্যাচে ৪ গোল করেছে, হজম করেছে ৩টি।

মিশরের সেরা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ গোল ও আক্রমণ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। ওমর মারমুশও দুর্দান্ত ছন্দে। মাঝমাঠে মাহমুদ হাসান ত্রেজেগে ও হামদি ফাতহি ভারসাম্য এনেছেন। রক্ষণে মোহামেদ আবদেলমোনেম দৃঢ়, আর গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি নির্ভরযোগ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচ ও অধিনায়কের বক্তব্য

অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ বলেছেন, 'নকআউটে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। মিশর অভিজ্ঞ দল, আমরাও নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করি।' মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেছেন, 'অস্ট্রেলিয়া খুব শক্তিশালী এবং দারুণ সংগঠিত দল। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে।' অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ সতীর্থদের সতর্ক করে বলেছেন, 'একটি মুহূর্তই পুরো ম্যাচ বদলে দিতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।'

কৌশলগত দ্বৈরথ

ম্যাচের মূল আকর্ষণ অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ বনাম মিশরের বল দখলভিত্তিক ফুটবল। সকারুজরা শারীরিক সক্ষমতা ও গতিকে কাজে লাগিয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে সালাহ, মারমুশ ও ত্রেজেগেকে ঘিরে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ে তুলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে মিশর।

ইতিহাস বনাম পুনর্জাগরণ

দুই দলের এই লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখছে, আর মিশর হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারে মরিয়া। শেষ বাঁশি বাজার পর হাসবে সকারুজদের স্বপ্ন, নাকি পিরামিড দেশের পতাকা উড়বে শেষ আটের আকাশে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।