দারিদ্র্য থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলার
২০০০ সালের ১২ জুলাই ব্রাজিলের সাও গনসালো শহরে সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জীবন শুরু হয়েছিল অন্ধকার থেকে। সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্বপ্ন ছিল অসীম। শৈশবে ফুটসালের প্রতি তার ভালোবাসা তাকে ছোট কোর্টে দ্রুত পাস ও বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এনে দেয়, যা পরবর্তীতে তার খেলোয়াড়সত্তা গড়ে তোলে।
পরিবার ধনী ছিল না; অনুশীলনে যাতায়াত ও সরঞ্জামের জন্য সবকিছু হিসাব করে চলতে হতো। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য কমিয়ে ভিনিকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং ভিনির স্বপ্ন পুরো পরিবারের স্বপ্ন হয়ে ওঠে।
ফ্লামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদ
জীবনের বড় বাঁক আসে যখন তিনি তার ভালোবাসার ক্লাব ক্লুবে দে রেগাতাস দো ফ্লামেঙ্গোর একাডেমিতে সুযোগ পান। ফুটসাল থেকে ঘাসের মাঠে খেলা সহজ ছিল না, কিন্তু তার গতি, ড্রিবল ও আক্রমণ সবাইকে মুগ্ধ করে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভিনি সিনিয়র দলে অভিষেক করেন।
কিশোর বয়সে তাকে দলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শুরুতে সহজ ছিল না। তবে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি একাধিক লিগ শিরোপা, দুইবার ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব ট্রফি জিতেছেন এবং দুটি ইউরোপীয় ফাইনালে গোল করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি ফিফা বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলার পুরস্কার অর্জন করেন।
‘মালভাদেজা’ থেকে বিশ্বকাপের নায়ক
ব্রাজিলে তাকে অনেকেই ডাকেন ‘মালভাদেজা’, যার অর্থ প্রায় ভয়ংকর। বল পায়ে তিনি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য হয়ে ওঠেন আতঙ্ক। গত বিশ্বকাপে তার প্রথম যাত্রা থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই হার তাকে বদলে দেয় এবং এবার তিনি এসেছেন অন্য এক ভিনি হয়ে।
ব্রাজিলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু এখন তিনিই। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে দল ড্র করলেও পরে হাইতির বিপক্ষে ৩–০ জয়ে তিনি ছিলেন পুরো ম্যাচের প্রাণ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–০ জয়ে আবারও জ্বলে ওঠেন; ম্যাচের শুরুতেই প্রথম গোল, বিরতির আগে দ্বিতীয় গোল। এই দুই গোল তাকে টুর্নামেন্টে চার গোলের মালিক বানিয়েছে এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সামনের সারিতে নিয়ে গেছে।
২৪ বছর পর ঐতিহাসিক কীর্তি
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ধারাবাহিক গোল করে ভিনি ২৪ বছর পর ব্রাজিলের হয়ে কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলারদের একজন হন। নাম লেখান সেই ঐতিহাসিক তালিকায়, যেখানে একসময় ছিলেন রোনালদো নাজারিও ও রিভালদো। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একসময় ছোট্ট কোর্টে বল নিয়ে দৌড়াতেন, আর আজ পুরো একটা দেশ তার দৌড়ের দিকে তাকিয়ে আছে।



