মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের ঘটনা বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বার্তাসংস্থাগুলোর খবর অনুযায়ী, ফিফা ট্রাম্পের সরাসরি সুপারিশেই বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছে। এই ঘটনায় ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল রসিকতা করে বলেছেন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন হয়তো এখন ট্রাম্পের সাহায্য চাইতে পারেন জ্যারেল কোয়ানসার লাল কার্ড বাতিলের জন্য।
টুখেলের রসিকতা ও ফিফার সমালোচনা
টুখেল মূলত ফিফার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, ওটা (বালোগান) কোনো লাল কার্ড ছিল না। কিন্তু ভিএআর এতে যুক্ত হয় এবং স্পষ্টতই ভিএআর-এর তিনজন ও রেফারি এটি পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে সিদ্ধান্ত তো হয়েই গেছে।' তিনি আরও বলেন, 'এখন এই সিদ্ধান্ত কে, কখন এবং কিসের ভিত্তিতে বাতিল করল? আর এই জল কতদূর গড়াবে? এটা আমার কাছে খুবই অদ্ভুত লাগছে। আমরা শুধু সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা চাই।'
প্রশ্নের পর প্রশ্ন টুখেলের
টুখেল প্রশ্ন তোলেন, 'তাহলে প্রথম মিনিটে ডেক্লান রাইসের পাওয়া আমাদের হলুদ কার্ডটি কি...আমরা এখন অন্তহীন বিতর্ক করতে পারি। আমি মনে করি, ওটা হলুদ কার্ড ছিল না। আমরা কি ওটা ফেরত পাব? প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাইকেল ওলিসের পাওয়া হলুদ কার্ডটি কি ফ্রান্স ফেরত পাবে, যা আদতে হলুদ কার্ডই ছিল না?' তিনি আরও বলেন, 'এর শেষ কোথায়? আমি নিয়মকানুন জানি না। আমাকে জিজ্ঞেস করা ভুল হবে। আমি শুধু অপেক্ষা করতে পারি এবং দেখি সামনে কী হয়।'
ট্রাম্পের প্রশংসা ও কেইনের ভূমিকা
ইংল্যান্ডের জয়ের পর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ হ্যারি কেইনের প্রশংসা করে তাঁকে 'দুর্দান্ত খেলোয়াড়' বলে আখ্যা দেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক কোয়ানসার লাল কার্ডের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তদবির করতে পারেন কি না, জানতে চাওয়া হলে টুখেল রসিকতা করে বলেন, 'হতে পারে, এখান থেকে শুরু হতে পারে।'
সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন
টুখেল শেষ করেন এই বলে, 'কোথায় সীমারেখা টানতে হবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। আমার কাছে এর কোনো উত্তর নেই। এখন এর শেষ কোথায় হবে? হলুদ কার্ড যদি হলুদ কার্ড না হয়, তবে কি আমরা আপিল করব? আমরা কি মনে করি এটা লাল কার্ড নয়, নাকি অন্য কেউ তেমনটা মনে করে? এর শুরু কোথায় আর শেষ কোথায়?'



