বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে সোমবার রাত ১টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নজর থাকবে দুই প্রজন্মের দুই তারকা—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লামিন ইয়ামালের দিকে। চার ম্যাচ শেষে দারুণ ছন্দে থাকা দুই দলের মধ্যে জয়ী দলই জায়গা করে নেবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
দ্বৈরথের পরিসংখ্যান
১৯২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তার মধ্যে ১৭টি ম্যাচ জিতেছে স্পেন, পর্তুগালের জয় মাত্র ৬টিতে। বাকি ১৮টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এই দ্বৈরথে সবচেয়ে বড় জয়ও স্পেনের। ১৯৩৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মাদ্রিদে পর্তুগালকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল তারা। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে এই লড়াইয়ে সর্বোচ্চ চারটি গোল করেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এগিয়ে স্পেন
বিশ্বকাপ, ইউরো ও উয়েফা নেশনস লিগ মিলিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১২ বার। সেখানে স্পেনের জয় ৬টি, পর্তুগালের মাত্র ১টি, আর ড্র হয়েছে ৫টি ম্যাচ। স্পেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জয় এসেছে টাইব্রেকারে—একটি ২০১২ ইউরোতে, অন্যটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে পর্তুগাল। সর্বশেষ ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা জেতে তারা।
বিশ্বকাপে দুই দলের পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপের মূলপর্ব ও বাছাই মিলিয়ে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে দুটি ম্যাচ, চারটি ড্র হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় এখনও স্পেনের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি পর্তুগাল। মূল বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছে মাত্র দুইবার। ২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ডেভিড ভিয়ার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল স্পেন। সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে লা রোহারা। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুই দলের ৩-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস ড্র ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে আছে। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো। যোগ করা সময়ে তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে সমতা ফেরায় পর্তুগাল।
সর্বশেষ লড়াই
সবশেষ ২০২৫ সালের ৮ জুন মিউনিখে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। অতিরিক্ত সময় শেষে ২-২ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে পর্তুগাল।



