কানাডার মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্টাকিও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোল করে কানাডাকে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জিতিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। এই গোলটি শুধু ম্যাচ জেতায়নি, বরং ৭ নম্বর জার্সি নিয়ে নতুন এক আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
রোনালদোর অপূর্ণতা আর ইউস্টাকিওর কীর্তি
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপে দশটি গোল করলেও তার সবকটিই গ্রুপ পর্বে; নকআউট পর্বে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। অন্যদিকে, ইউস্টাকিও, যিনি পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে কানাডাকে জিতিয়ে দেন। দ্য অ্যাথলেটিকের কলিন মিলার টুইটে উল্লেখ করেন, ইউস্টাকিও পর্তুগালকে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম ৭ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করলেন।
দুই দেশের পরিচয় আর পছন্দের গল্প
ইউস্টাকিওর জন্ম কানাডার অন্টারিওতে, কিন্তু তার মা-বাবা পর্তুগিজ। সাত বছর বয়সে তিনি পর্তুগালে ফিরে যান এবং সেখানকার নাজারায় বেড়ে ওঠেন। ফুটবল শুরু করেন ওস নাজারেনোসে, পরে পর্তুগিজ ফুটবলের একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। যুব পর্যায়ে কানাডার হয়ে খেললেও ২০১৭ সালে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পান এবং সাতটি ম্যাচ খেলেন। তবে ২০১৯ সালে তিনি চূড়ান্তভাবে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের স্মৃতি আর ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত
ইউস্টাকিওর ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে ব্রেন ক্যানসারে তার মা এজমেরালদা মারা যান এবং ২০২৪ সালের মে মাসে হৃদরোগে বাবা আর্মান্দো মারা যান। ২০২৬ সালের ২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'আমার মনে হচ্ছিল যেন সবাই আমার সঙ্গে শটটি নিচ্ছে। সবাই যেন শটটিতে একটু একটু করে শক্তি যোগ করে দিচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'আমি যা কিছু করি, সব আমার পরিবারের জন্য—মা-বাবার জন্য, আমার মেয়ের জন্য, আমার ভাইয়ের জন্য, বন্ধুদের জন্য। সবার জন্য।'



