বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর থেকেই একটি প্রশ্ন ফুটবলপ্রেমীদের মনে ঘুরছিল—গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ কোনটি হবে? ব্রাজিল-মরক্কো, ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়ার মতো ম্যাচগুলো ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলো যদি 'ট্রেলার' হয়, তাহলে আসল 'সিনেমাটা' আজ রাতেই। ফ্রান্স ও নরওয়ের মধ্যকার এই ম্যাচটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে এই সময়ের দুই ফুটবল সুপারস্টার—কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ডের দ্বৈরথের কারণে।
মেসি-রোনালদোর শূন্যতা পূরণ হবে কি?
ইউরোপিয়ান ফুটবলে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথের পর অনেকেই আশা করেছিলেন, এমবাপ্পে ও হলান্ড সেই শূন্যতা পূরণ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মেসি-রোনালদোর মতো এই দুজনের দ্বৈরথ এখন পর্যন্ত সেভাবে জমেনি। দীর্ঘদিন লা লিগায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে খেলার সুবাদে মেসি-রোনালদোর নিয়মিত দেখা হলেও, এমবাপ্পে ও হলান্ড এখন পর্যন্ত একাধিক ক্লাব বদল করলেও একই লিগে খেলেননি। তাই তাঁদের দ্বৈরথ মেসি-রোনালদোর মতো না হওয়ার এটিও একটি বড় কারণ।
ক্লাব ও জাতীয় দলে ভিন্ন পথ
ফ্রান্স থেকে এমবাপ্পে গিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে স্পেনে, অন্যদিকে অস্ট্রিয়া ও জার্মানি ঘুরে হলান্ড এখন থিতু হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইংল্যান্ডে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া তাঁদের দেখা হওয়ার তেমন সুযোগ নেই। সেটিও মাত্র চারবার হয়েছে, যেখানে এমবাপ্পের এক গোলের বিপরীতে ৫ গোল নিয়ে হলান্ড এগিয়ে। জাতীয় দলের হয়ে সুযোগ আরও কম। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স-নরওয়ের দেখা হয়েছে ১৫ বার, যেখানে ফ্রান্সের ৭ জয়ের বিপরীতে নরওয়ের জয় ৪টি। তবে দুই দলের সর্বশেষ দেখা ১২ বছর আগে, যখন এমবাপ্পে ও হলান্ড পেশাদার ফুটবল খেলাই শুরু করেননি। ফ্রান্স-নরওয়ের ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক আসরে তাঁরা প্রথম একে অন্যের মুখোমুখি হবেন। বিশ্বকাপের চেয়ে বড় উপলক্ষ আর কী হতে পারে?
প্রতিদ্বন্দ্বী কি না, প্রশ্ন থেকেই যায়
দুজনের দ্বৈরথ না জমার আরেকটি কারণ হতে পারে, তাঁরা হয়তো একে অন্যকে প্রতিদ্বন্দ্বীই মনে করেন না। ২০২৩ সালে হলান্ড বলেছিলেন, 'এমবাপ্পে একজন অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। ফ্রান্স সৌভাগ্যবান, আমরা ওকে চাইলেও নরওয়েতে পাব না।' এমবাপ্পে অবশ্য এমন প্রশংসায় ভাসাননি হলান্ডকে। তবে একবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, তিনি আর হলান্ড দুজন আলাদা ঘরানার খেলোয়াড়, তুলনার সুযোগ নেই। মেসি-রোনালদোর সঙ্গে মিল খুঁজতে গিয়ে আরেকটি বিষয় চোখে পড়ে—এই সময়ের অন্যতম সেরা দুই তারকা হয়েও এখনো ব্যালন ডি'অর জেতেননি কেউই!
বিশ্বকাপে দুজনের শুরুটা চমৎকার
তবে বিশ্বকাপে দুজনের পারফরম্যান্স আজকের ম্যাচের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে শুরু করেছেন, যার মধ্যে দুটি অনেক দিন মনে রাখার মতো। অন্যদিকে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হলান্ডেরও ঠিক চার গোল। হলান্ডের গোলগুলো হয়তো চোখধাঁধানো নয়, তবে ম্যাচের অনেকটা সময় অদৃশ্য থেকেও জাত স্ট্রাইকারের মতো ঠিকই নিজের কাজ করে দেখিয়েছেন। এমবাপ্পের বিশ্বকাপে গোল এখন ১৬টি, সামনে কেবল লিওনেল মেসি। অন্যদিকে হলান্ড নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন এবার। বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতায় এমবাপ্পে এগিয়ে, কিন্তু ফর্ম আলাদা করতে পারছে না দুজনকে। আজকের ম্যাচে ফ্রান্স-নরওয়েকে কি আলাদা করা যাবে?



