খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্র সোনাডাঙ্গা এমএ বারী সড়কের পাশে আকাশচুম্বী ভবনের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল মাঠ। কালো নেটে আবদ্ধ সবুজ টার্ফটি প্রথম দেখায় মনে হয় ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো আধুনিক ফুটবল ভেন্যু। খুলনাবাসীর জন্য এটি প্রথমবারের মতো এমন সুযোগ এনে দিয়েছে।
তিন তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগ
খুলনা বিভাগে প্রথমবারের মতো এই টার্ফ মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা প্রিন্স, মিম এবং তৌকির। তারা বাগেরহাট জেলার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে মাঠটি নির্মাণ করেন। সম্প্রতি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠটির উদ্বোধন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল ও হকি দলের খেলোয়াড়রা।
আন্তর্জাতিক মানের উপকরণ
মাঠটির আধুনিকতা নিশ্চিত করতে ভিয়েতনাম থেকে উচ্চমানের কৃত্রিম ঘাস এবং চীন থেকে বিশেষ রাবার আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য কোম্পানির মাধ্যমে মাঠের চারপাশে মজবুত নেট দেওয়া হয়েছে। নৈশকালীন খেলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ফ্লাডলাইট বা এলইডি লাইট।
সুলভ মূল্যে খেলার সুযোগ
খুলনার সব স্তরের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য প্রতি ম্যাচের ফি রাখা হয়েছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। খেলোয়াড়দের রিফ্রেশমেন্টের জন্য মাঠের পাশে রয়েছে আধুনিক সুইমিংপুলের ব্যবস্থা।
ক্রীড়ামোদীদের প্রতিক্রিয়া
মাঠে আসা একাধিক ক্রীড়ামোদী জানান, খুলনার ক্রীড়া ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু। তারা বলেন, খুলনার ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় সবসময় এগিয়ে, কিন্তু একটি ভালো টার্ফ মাঠের অভাব ছিল। এই মাঠ খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জাতীয় দলের তারকাদের বক্তব্য
জাতীয় নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় আফঈদা খন্দকার বলেন, 'খুলনা বিভাগে প্রথম টার্ফ মাঠের উদ্যোগ নেওয়ায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান যুগের তরুণেরা যখন মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তাদের মাঠে ফেরানোর জন্য এটি একটি উপযুক্ত ও দারুণ স্থান।'
জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের খেলোয়াড় শাহরিয়ার ইমন বলেন, 'দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলার মাঠ দিন দিন কমে যাচ্ছে। খুলনায় আগে কোনো টার্ফ ছিল না, এটি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।'
উদ্যোক্তার প্রতিক্রিয়া
খুলনা টার্ফের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা প্রিন্স মারুফ বলেন, 'ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অনেক টার্ফ মাঠ করা হয়েছে। সেসব দেখেই আমি খুলনায় এসে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে এই উদ্যোগ নিই। শুরু থেকেই আমরা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া ও সহযোগিতা পাচ্ছি।'



