বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স ও মরক্কো। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের রিম্যাচই হতে যাচ্ছে এটি। সেবার মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল এমবাপ্পের দল।
মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত
শনিবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়া অ্যাটলাস লায়ন্স এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বৃহস্পতিবার তাদের হারাতে হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ করেছিল ফরাসিরা।
ফ্রান্সের শক্তিশালী ফর্ম
দারুণ ছন্দ নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছে তারা। চলতি বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচের প্রতিটিতেই প্রথম গোল করেছে ফরাসিরা। সর্বশেষ নয় ম্যাচের আটটিতেও প্রথমার্ধের পর এগিয়ে ছিল তারা।
পরিসংখ্যানও ফ্রান্সের আধিপত্যের কথাই বলছে। চলতি আসরে তাদের গড় বল দখলে রাখার হার ৫৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আর পাস সফলতার হার ৮৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আক্রমণভাগেও দারুণ ধারাবাহিক ফ্রান্স। তাদের টানা ১০ ম্যাচেই মোট গোল হয়েছে আড়াইয়ের বেশি।
মরক্কোর অপরাজিত রেকর্ড
আগের বিশ্বকাপের চেয়েও পরিণত মরক্কো। যারা এখন আর রূপকথার দল নয়। তারা এখন এমন এক পরাশক্তি, যারা জানে কীভাবে কঠিন লড়াই জিততে হয়, বড় ম্যাচে জয় ছিনিয়ে আনতে হয় এবং ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আধিপত্য দেখাতে হয়। শেষ ষোলোতেই যেমন তারা স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত মরক্কো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অপরাজিত টানা ৩৪ ম্যাচে। তবে পারফরম্যান্স পুরোপুরি নিখুঁত বলা যাবে না। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করে নজর কেড়েছিল তারা। এরপর স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে টানা দুই জয় পেলেও দুই ম্যাচের চিত্র ছিল ভিন্ন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর কঠিন লড়াই করে সেই ব্যবধান ধরে রাখতে হয়েছিল। আর ইতোমধ্যেই বিদায় নেওয়া হাইতির বিপক্ষে গোলবন্যায় তারা ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এগিয়েই ছিল মরক্কো। তবু শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে হেড থেকে গোলে জয় মেলে তাদের। এরপর কানাডার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় পেলেও পারফরম্যান্স খুব একটা আহামরি বলা যাবে না। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাদের কাজ করার জায়গা আছে অনেক।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
মুখোমুখি লড়াইয়ে পাল্লাটা ফ্রান্সেরই বেশি ভারি। তিন ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তার মধ্যে দুটিতে জয় ফরাসিদের। একটি ড্র হয়েছে। সর্বশেষ লড়াইটি কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ফ্রান্স জিতেছে ২-০ গোলে। এছাড়া বাকি দুটি প্রীতি ম্যাচে। ২০০০ সালের একটি ম্যাচে মরক্কোকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল তারা। ২০০৭ সালে অবশ্য মরক্কো ফ্রান্সের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল।



