২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার প্রদানের সময় স্পন্সর মদ প্রস্তুতকারী কোম্পানির নাম ব্যাকড্রপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন আনা হয়েছে ধর্মীয় কারণে, কারণ ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
আগের দুটি বিশ্বকাপে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি যুক্ত ছিল একটি মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মিশরের গোলকিপার মোহাম্মদ আল শেনাওই এই কারণে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ২০২২ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর পুরস্কারের মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগোতে হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, কারণ তিনি কোনো মদ বা জুয়া সংস্থার বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চাননি।
এবারের বিশ্বকাপে অনলাইনে ভোট দিয়ে সমর্থকরা প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচন করছেন। এই পুরস্কার দেওয়ায় ফিফাকে সহায়তা করছে মাইকেল আলট্রা নামে একটি ব্র্যান্ড। সাধারণত ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় বিজয়ী ফুটবলার ট্রফি হাতে স্পন্সরের নামের ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন এবং ট্রফিতেও স্পন্সরের নাম থাকে। পরে সেই ছবি ফিফা নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে।
কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
এবার একটি ছোট্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে। মুসলিম প্রধান দেশে মদপান নিয়ে কড়া আইন রয়েছে। তাই কোনো মুসলিম ফুটবলার ম্যাচের সেরা হলে তার পুরস্কারের ব্যাকড্রপ থেকে ওই কোম্পানির নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে কানাডার ইসমাইল কোনে, কাতারের মাহমুদ আবুনাদা এবং ইসমাইল সাইবাড়ির উপর। মুসলিম ফুটবলারদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কোম্পানির নাম দেখানোর পরিবর্তে ব্যাকড্রপে শুধু লেখা 'Superior player of the match' এবং তার সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের লোগো রাখা হচ্ছে। ট্রফির নকশা একই থাকছে, শুধু মদ কোম্পানির নাম সরানো হচ্ছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
শুধু বিশ্বকাপ নয়, ঘরোয়া ফুটবলেও এখন অনেক নিয়ম বদলেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই শ্যাম্পেনের বদলে নন-অ্যালকোহলিক শ্যাম্পেন ব্যবহার করা হয়। ফিফার এই নিয়ম ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।



