বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের লড়াকু দল নরওয়ে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় শুরু হবে এই মহারণ। প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান ভেন্যু এবং এখানেই ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
ব্রাজিলের ছন্দ ও পরিসংখ্যান
চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে রয়েছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করার পর হাইতিকে ৩–০ এবং স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা। তিন ম্যাচে সাত গোল করেছে, হজম করেছে মাত্র একটি। শেষ বত্রিশে জাপানকে ২–১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে ব্রাজিলের। ওই ম্যাচে গোল করেন কাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি।
নরওয়ের উত্থান-পতন
নরওয়ের যাত্রা ছিল উত্থান-পতনে ভরা। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪–১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালকে ৩–২ গোলে হারিয়ে নকআউটের পথে এগিয়ে যায়। শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪–১ গোলে হারলেও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যায় নরওয়ে। শেষ বত্রিশে আইভরি কোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে নর্ডিকরা।
ব্রাজিলের মূল খেলোয়াড় ও কৌশল
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার গতি, ড্রিবলিং ও একের বিপক্ষে লড়াই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি। রদ্রিগো গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি, আর কাসেমিরো মাঝমাঠ থেকে গোল করে অভিজ্ঞতার মূল্য বুঝিয়েছেন। ব্রুনো গিমারায়েস ও লুকাস পাকেতা মাঝমাঠে ছন্দ ধরে রেখেছেন। ডিফেন্সে মারকিনিয়োস নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর গোলবারের নিচে অ্যালিসন বেকার নির্ভরতার প্রতীক।
নরওয়ের মূল খেলোয়াড় ও কৌশল
নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আর্লিং হালান্ড। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজান। আলেকজান্ডার সোরলথ গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। অস্কার ববের গতি, লিও ওস্টিগার্ডের ডিফেন্স এবং গোলকিপার ওরইয়ান নিল্যান্ডের সেভ দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
কোচ ও অধিনায়কের বক্তব্য
ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘নকআউটে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো। নরওয়ে খুবই সংগঠিত দল। আমাদের নিজেদের সর্বোচ্চ ফুটবল খেলতে হবে।’ নরওয়ের কোচ বলেন, ‘ব্রাজিলকে সবাই ফেবারিট বলছে। ফুটবলে নাম দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। আমরা নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করি।’ অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেন, ‘আমরা জানি ব্রাজিল কত বড় দল। ভয় নিয়ে মাঠে নামছি না। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে যেকোনো কিছু সম্ভব।’
অতীত লড়াই ও কৌশলগত দিক
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ে ২–১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। কৌশলগতভাবে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ব্রাজিলের বলের দখলভিত্তিক আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপক্ষে নরওয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত প্রতিআক্রমণ। ব্রাজিল শুরু থেকেই বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবে, আর নরওয়ে অপেক্ষা করবে সুযোগের, তারপর হালান্ড, ওডেগার্ড ও সোরলথকে নিয়ে দ্রুত আঘাত হানবে।
কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের এই লড়াইয়ে একদিকে সাম্বার ছন্দে এগোতে চায় ব্রাজিল, অন্যদিকে নর্ডিক বিস্ময় রচনা করতে চায় নরওয়ে। শেষ বাঁশি বাজার পর কে হাসবে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।



