নরওয়ের কাছে হেরে চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। অপ্রত্যাশিত এই ফলাফলের পরও দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। বরং ব্যর্থতার দায় কোচের কাঁধে না চাপিয়ে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইতালিয়ান এই ট্যাকটিশিয়ানের ওপরই ভরসা রাখতে চায় দেশটির ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কোচের প্রতি আস্থার কারণ
সিবিএফ মনে করছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে খুব একটা সময় পাননি আনচেলত্তি। দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক টানাপোড়েন ও ঘন ঘন কোচ পরিবর্তনের মতো অস্থিরতার মাঝেও তিনি একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোয়াড গঠনের চেষ্টা করেছেন। তাই শেষ ষোলো থেকে দলের বিদায়ের পর কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে নারাজ কর্তারা।
তবে নরওয়ের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচটিতে দ্বিতীয়ার্ধে কোচের কিছু খেলোয়াড় বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সিবিএফের একাংশের মতে, ম্যাচের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আনচেলত্তির সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাশিত মানের ছিল না। তা সত্ত্বেও এই ইতালিয়ানের ওপর থেকে আস্থা সরাতে রাজি নয় সংস্থাটি।
চুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মূলত বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগেই আনচেলত্তি ও তার কোচিং প্যানেলের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিল সিবিএফ। সংস্থাটির নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, একটি ব্যর্থতার জেরে নতুন কোচ এনে শূন্য থেকে কাজ শুরু করার চেয়ে বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বেশি যৌক্তিক। এটি আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হবে।
প্রধান কোচের পদে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিল দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা না ঘটলে আমাদের বর্তমান পরিকল্পনাই বহাল থাকবে। এখন ঠান্ডা মাথায় পুরো বিশ্বকাপের ভালো-মন্দ মূল্যায়ন করার সময়।’
দলকে সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে কায়েতানো আরও জানান, এই দলটির আরও বহুদূর যাওয়ার সামর্থ্য ছিল। আগামী চার বছর একটি স্থিতিশীল পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেলে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য দল আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে ফিরবে। তবে এই বক্তব্যকে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
প্রশাসনিক অস্থিরতা
এদিকে মাঠের ফুটবলে ব্যর্থতার পাশাপাশি ব্রাজিলের ফুটবলের প্রশাসনিক অঙ্গনেও চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। উল্টো তিনি এখন নানামুখী রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে সংস্থার অভ্যন্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক কাঠামোগত পরিবর্তনের আলোচনাও জোরালো হচ্ছে।



