ব্রাজিল-জাপান ম্যাচে নেইমার-ভিনিসিয়ুস নেই অনুশীলনে, জিকোর সেতুবন্ধন
ব্রাজিল-জাপান ম্যাচে নেইমার-ভিনিসিয়ুস নেই অনুশীলনে

ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের ভেন্যু হিউস্টন। শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায়। এই ম্যাচে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের একটু হৃদয়ঘটিত সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি আছে।

ব্রাজিলের অনুশীলনে নেইমার-ভিনিসিয়ুসের অনুপস্থিতি

ব্রাজিলের অনুশীলনে নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দেখা যায়নি। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্কটল্যান্ড ম্যাচের একাদশ নিয়েই বেজক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলন করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম। একই একাদশ খেলালে এ ম্যাচেও হয়তো নেইমারকে নামতে হবে পরে। স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরে শেষ ২০-২৫ মিনিটে তিন-চারটি সুযোগ তৈরি করেন নেইমার। আনচেলত্তি নিশ্চয়ই জানেন, জাপান নেইমারের পছন্দের দল। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে জাপানের বিপক্ষে তাঁর গোল (৯) সবচেয়ে বেশি। ভিনিসিয়ুস ও মাতেউস কুনিয়াও গোলের মধ্যে থাকায় এ ম্যাচে মূল লড়াইটা ব্রাজিলের আক্রমণভাগ বনাম জাপানের রক্ষণের।

জিকো: ব্রাজিল-জাপানের সেতুবন্ধ

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকো ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবলকে সংযুক্ত করেছেন। ফ্ল্যামেঙ্গো ছাড়ার পর ১৯৮৯ সালে ফুটবল থেকে কিছুদিন দূরে ছিলেন জিকো। তখন ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রীও হন। সেই সময় জাপানের ইস্পাত তৈরির প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো মেটাল থেকে জিকো ডাক পান। তাদের দল কাশিমা অ্যান্টলার্সের হয়ে খেলতে হবে জাপানের ঘরোয়া ফুটবলে। ১৯৯১ সালের মে মাসে জিকো সেখানে যাওয়ার দুই বছর পর তাঁর দিকনির্দেশনায় জে-লিগ যাত্রা শুরু করে, পেশাদার কাঠামো পায় জাপানের ঘরোয়া ফুটবল। জাপানের শহর কাশিমায় সেই প্রাণপুরুষের দুটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য আছে। জাপানিরাও আজ সেই ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে হৃদয়ঘটিত সমস্যায় ভুগবেন। কারণ, জাপানের ফুটবলকে দুটি ভাগে ভাগ করা সময় শুধু একটি কথায়—জিকোর আগে ও পরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও পূর্বাভাস

১৪ বারের মুখোমুখিতে ব্রাজিলের ১১ জয়, ২ ড্র এবং সর্বশেষ হার গত বছর অক্টোবরে। সেই প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও হেরেছিল ৩-২ গোলে। বিশ্বকাপের আগে একবারই দেখা হয়েছে দুই দলের। সেটা ২০০৬ আসরে—জিকো তখন জাপানের কোচ, তাঁর সামনে জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিলেন রোনালদিনিও, রোনালদোরা। জাপানের কোচ হাজিমো মোরিয়াসু বলেছেন, 'ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, আমরা তাদের সম্মান করি। তবে ম্যাচে কী ঘটবে, তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। আমাদেরও জেতার সমান সুযোগ থাকবে।' জিকো ম্যাচের পূর্বাভাস দিয়েছেন, 'দুই দলই আক্রমণাত্মক খেলবে। ব্রাজিলের অবশ্যই জাপানের গতি এবং ফুটবলারদের মুভমেন্ট নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ওরা মাঠে একমুহূর্তের জন্যও থামে না।'

জাপানের আন্ডারডগ মানসিকতা

জাপানের স্ট্রাইকার তাকুমি মিনোমিনো বলেছেন, 'যদি নিজেদের আন্ডারডগ ভেবে মাঠে নামি, তবে নকআউটে যেকোনো কিছু ঘটিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে।' ১৯৯৬ আটলান্টা অলিম্পিকের ফুটবল ইভেন্টে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল জাপান। জাপানের ফুটবলে সেই জয় 'মায়ামি নো কিসেকি' বা 'মায়ামির অলৌকিক ঘটনা' নামে পরিচিত। হিউস্টনেও নিশ্চয়ই তেমন কিছুরই আশায় জাপান।