বিসিবি নির্বাচন তদন্তে মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করে বলেছেন, মন্ত্রণালয় এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে বিসিবির উপর তদন্ত করছে।
আসিফ মাহমুদের চারটি মূল অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে চারটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন কেন তিনি তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি:
- এখতিয়ার লঙ্ঘন: একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির উপর মন্ত্রণালয় এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে।
- পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত: তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
- আদালত অবমাননা: উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা আদালত অবমাননা করছেন।
- ভয়ভীতি প্রদর্শন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ দেখাচ্ছেন এবং লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যখন তাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকারের জন্য জানানো হয়, তখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কিনা জানতে চেয়ে কোন সদুত্তর পাননি। আসিফ মাহমুদ বলেন, "কিভাবে সরকার চালাতে হয়, কিভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হবো না।"
তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামানের বক্তব্য
অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেছেন, "কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছিলো, তিনি আসেননি।" তার মতে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং প্রতিবেদনে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।
এই ঘটনাটি বিসিবির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর সরকারি হস্তক্ষেপ ক্রীড়া প্রশাসনের স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করতে পারে।



