জকসু ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, খেলোয়াড়ের থাপ্পড়
জকসু ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, থাপ্পড়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ইনডোর গেইমসের ক্যারম টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় খেলোয়াড় সাদিয়া সুলতানা নেলী ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিসকে থাপ্পড় মেরেছেন। আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ইনডোর গেইমস প্রতিযোগিতা ২০২৬–এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অষ্টম ইনডোর গেইমসের ক্যারমের ফাইনাল খেলা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে খেলোয়াড় সাদিয়া ও ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিসের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাদিয়া ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দেন।

খেলোয়াড়ের বক্তব্য

জানতে চাইলে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন, ডুয়েল গেমসের নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের দুজন খেলোয়াড়কে একটি দলে থাকতে হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে থাকা দুজন খেলোয়াড় একই বিভাগের ছিলেন না, যা নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি জানার পর তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সাদিয়ার সঙ্গে জর্জিসের কথা–কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে একজন আরেকজনকে পাল্টাপাল্টি হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণী হয়। এর পরপর সাদিয়া জর্জিসকে থাপ্পড় দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর সাদিয়া নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্রীড়া সম্পাদককে উদ্দেশ করে সতর্কবার্তা দেন। তিনি লেখেন, ‘মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (ক্রীড়া সম্পাদক, জকসু) এরপর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন তো শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায়ভাবে রুলস–এর (নিয়মের) বাইরে গিয়ে দুইটা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন, সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’

ক্রীড়া সম্পাদকের বক্তব্য

জানতে চাইলে জর্জিস আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্যারমের ডুয়েল গেমসের নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের দুজন খেলোয়াড়কে একটি দলে থাকতে হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে থাকা দুজন খেলোয়াড় একই বিভাগের ছিলেন না, কিন্তু তাঁরা ফাইনাল ম্যাচ পর্যন্ত খেলতে এসেছেন। এর আগে তাঁদের কেন বাদ দেওয়া হলো না, সে বিষয়ে ক্রীড়া কমিটির সাথে কথা বলি। বর্তমানে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়েও সাদিয়া সুলতানা নেলীর দলের সাথে কথা হয়। তিনি খুবই উত্তেজিত ছিলেন এবং আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন। যেহেতু একপক্ষ অনিয়ম করেছে, সেহেতু তাদের বাদ দিয়ে সাদিয়া সুলতানার দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার বিতরণ শেষে তিনি আমার সাথে কথা বলবেন বলে ডাক দেন। আমি কথা বলব না বলে জানিয়ে দিই। সেই মুহূর্তে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলী নূরের সামনে আমাকে অতর্কিত এসে থাপ্পড় মারেন। জকসুর ভিপিসহ অনেকে বিষয়টি দেখেছেন।’

ক্রীড়া কমিটির অবস্থান

জানতে চাইলে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলী নূর বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরস্কার বিতরণ শেষে ঘটনাটা ঘটেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।’

প্রেক্ষাপট

গত ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনে অদম্য জবিয়ান ঐক্য (ছাত্রশিবির) প্যানেল থেকে নির্বাচন করে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাদিয়া সুলতানা ছাত্রদলের অপরাজিতার অগ্রযাত্রা প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচন করেছিলেন।