আবহাওয়া অনুকূলে আসতেই মাউন্ট এভারেস্টে তৈরি হলো এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রেকর্ড সংখ্যক ২৭৪ জন পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় পা রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
‘এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন নেপাল’-এর ঋষি রাম ভান্ডারি জানান, বুধবার (২০ মে) আবহাওয়া একদম পরিষ্কার থাকায় পর্বতারোহীরা এই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করেন। নেপাল অংশে অবস্থিত এভারেস্টের জনপ্রিয় দক্ষিণ দিক দিয়ে একদিনে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের চূড়ায় পৌঁছানোর ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম।
দুই রুটের মধ্যে নেপাল অংশেই ভিড়
সাধারণত নেপালের দক্ষিণ দিক অথবা চীনের তিব্বত অংশের উত্তর দিক—এই দুই রুট দিয়ে এভারেস্ট আরোহণ করা যায়। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে নেপাল অংশ দিয়ে ২২৩ জন এবং চীন অংশ দিয়ে ১১৩ জন পর্বতারোহী একই দিনে চূড়ায় উঠেছিলেন। তবে এ বছর চীনা কর্তৃপক্ষ তাদের রুটটি বন্ধ রাখায় সব পর্বতারোহীর ভিড় জমেছে নেপাল অংশে।
বরফখণ্ডের কারণে আরোহণে বিলম্ব
চলতি বছর এভারেস্টের মূল আরোহণ রুটের ওপর একটি বিশাল বরফখণ্ড বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকায় মে মাসের শুরুর দিকে আরোহণ প্রক্রিয়া বেশ ব্যাহত হয়। এই ঝুঁকির কারণে এ বছরের পর্বতারোহণের মৌসুম কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, মে মাসের শেষের দিকে এই মৌসুম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৯৪ জন বিদেশী পর্বতারোহী এবং সমসংখ্যক শেরপা গাইডের ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩২ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতটি জয়ের লক্ষ্য রয়েছে।
ব্যক্তিগত রেকর্ডও ভাঙলেন কামি রিতা শেরপা
এবারের মৌসুমে শুধু সামষ্টিক রেকর্ডই নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও তৈরি হয়েছে একাধিক নতুন ইতিহাস। কামি রিতা শেরপা নামের অভিজ্ঞ এক নেপালি মাউন্টেন গাইড চলতি সপ্তাহের শুরুতে ৩২তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজের গড়া বিশ্ব রেকর্ড আবার ভেঙেছেন। অন্যদিকে কামি রিতার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাসাঙ্গ দাওয়া শেরপা চলতি সপ্তাহে ৩০তম বারের মতো এভারেস্ট চূড়ায় পা রেখে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
‘মাউন্টেন কুইন’ লাকপা শেরপার ১১তম জয়
‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত লাকপা শেরপা ১১তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করেছেন। এর মাধ্যমে নারী পর্বতারোহী হিসেবে সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্ট চূড়ায় ওঠার নিজস্ব রেকর্ডটি তিনি আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নরগে প্রথমবারের মতো মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছিলেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ এই দুর্গম চূড়া স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করেছেন।



