দেশের ক্রীড়াঙ্গণে বিভিন্ন ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নতুন করে একাধিক অ্যাডহক কমিটি ঘোষণার গুঞ্জন থাকলেও আপাতত সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিতর্ক
ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে ফেডারেশন পরিচালনার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা গঠনতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার ওপর নতুন করে কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সরকারিভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনূর বলেন, “অ্যাডহক কমিটির ওপর আবার অ্যাডহক কমিটি গঠনের নিয়মই সঠিক নয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাসের বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ বর্তমান অনেক কমিটিই বছরের পর বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যেও যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সরকারের উচিত বিষয়টি তদন্ত করা।”
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আশা
তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজেও দেশের একজন সাবেক তারকা ফুটবলার। তিনি ক্রীড়াঙ্গণের বাস্তবতা বোঝেন। আশা করি, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।”
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কোহিনূর। তার ভাষায়, “ক্রীড়াঙ্গণের অভিভাবক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা বহু বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তদন্তের পাশাপাশি এসব দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করতেও সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মত
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদ এএ আদেলও অভিযোগের তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করা। দেড় বছর ধরে চলা অ্যাডহক কমিটির সময়ে দেশের ঘরোয়া হকি কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তারা ঘরোয়া কাঠামো শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিদেশ সফর নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল।”
নেপথ্যে চলমান প্রক্রিয়া
এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখনো নেপথ্যে চলমান রয়েছে। সূত্রের দাবি, গত রোববার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠককে নিয়ে সভা করেন জাতীয় দলের সাবেক এক ফুটবলার। বৈঠকে বিভিন্ন ফেডারেশনের সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে দেশের বেশ কয়েকজন পরিচিত ক্রীড়া সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, সরকার তদন্তে নামলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষ বুকিংয়ের তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই বৈঠকের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে আসবে।
মন্ত্রণালয় ও এনএসসির নীরবতা
অ্যাডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্রীড়াঙ্গণ সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই এ বিতর্কের গ্রহণযোগ্য সমাধান এনে দিতে পারে।



