৫ কারণে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল আর্জেন্টিনা, বাঁচালেন মেসি
৫ কারণে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল আর্জেন্টিনা

মেসির জাদুতে রক্ষা পেল আর্জেন্টিনা

আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির শেষ মুহূর্তের জাদুতেই কেবল বিদায় এড়াতে পেরেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি কাঠামোগত দুর্বলতাই আর্জেন্টিনাকে প্রায় ছিটকে দিয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে।

ডেড-বল ডিফেন্সে চরম ব্যর্থতা

ম্যাচের প্রথম গোলটিই এসেছিল ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে, যেখানে বক্সে ভেসে আসা ক্রসে ইয়াসের ইব্রাহিম হেড করে বল জালে জড়ান আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বোকা বানিয়ে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ তার মার্কিং ছেড়ে দেন, আর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও নড়ার সুযোগ পাননি। সেট-পিস মার্কিংয়ে এই অসতর্কতা আর্জেন্টিনার জন্য টুর্নামেন্টজুড়েই দুশ্চিন্তার কারণ হতে হচ্ছে।

মেসির পেনাল্টি বিভ্রাট

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছিল খোদ মেসির কাছ থেকেই। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি নষ্ট করেন তিনি, যা এই বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় মিস। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে আটটি স্পট-কিকের মধ্যে চারটিই মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক; যা তার মানের একজন খেলোয়াড়ের জন্য রীতিমতো বিস্ময়কর। এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতেও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্র্যানজিশন ডিফেন্ডিংয়ে ভয়াবহ ফাঁকফোকর

মিসরের দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল একেবারে কপিবুক কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে। মোহামেদ সালাহ, হাসান আর জিকোর দ্রুতগতির আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণ কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে রক্ষণে ফিরে আসার গতি এবং সংগঠন; দুটোতেই স্পষ্ট ঘাটতি দেখা গেছে, যা দ্রুতগতির দলগুলোর বিপক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিনিশিংয়ে চূড়ান্ত অগোছালো ভাব

শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণেও ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল। হুলিয়ান আলভারেজ এবং এনজো ফার্নান্দেজ একাধিকবার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। বিশেষ করে ফের্নান্দেজের অল্প দূরত্ব থেকে বল বাইরে পাঠানো রীতিমতো অবিশ্বাস্য ছিল। প্রথমার্ধে একাধিক ভালো অবস্থানে বল পেয়েও তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হওয়া প্রমাণ করে, আক্রমণভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও তীক্ষ্ণতার অভাব রয়েছে।

বড় দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকা

টুর্নামেন্টের আগের রাউন্ডগুলো তো বটেই, আর্জেন্টিনা শেষ কবে তুলনামূলক বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছে মনে করতে পারছেন? সে কারণে দলের ধারও কিছুটা কমে গেছে। যা কেপ ভার্দের বিপক্ষে ভুগিয়েছে, মিসরের মতো সংগঠিত ও পরিশ্রমী দলের বিপক্ষেও সেই ঘাটতিই প্রথমার্ধে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে আর্জেন্টিনাকে অনেকটাই নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত মেসির চার মিনিটের মধ্যে করা অ্যাসিস্ট ও গোল, এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক হেডার আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়ে দেয়। কিন্তু এই ম্যাচ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: রক্ষণের গঠন, পেনাল্টি নির্ভরযোগ্যতা এবং ধারাবাহিক ফিনিশিং ঠিক না করলে সামনের রাউন্ডগুলোতে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।