ইরান নারী ফুটবলার জহরা কানবারির সম্পদ ফিরে পাচ্ছেন, আদালতের নির্দেশে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার
ইরানে জহরা কানবারির সম্পদ ফেরত, আদালতের নির্দেশে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

ইরানে নারী ফুটবলার জহরা কানবারির সম্পদ ফেরতের আদেশ, বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

ইরানের বিচার বিভাগ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জহরা কানবারির ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার কারণে এই নারী ফুটবলারের সম্পদ ও স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশে তা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সফর ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন

মার্চ মাসে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরান দল। ঠিক সেই সময়েই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কানবারিসহ দলের ছয় ফুটবলার ও একজন কর্মকর্তা অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত পালটে ফেলেন কানবারি। চার সতীর্থকে নিয়ে গত ১৯ মার্চ তেহরানে ফিরে যান তিনি। বিমানবন্দরে তাদের বীরোচিত সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশ ও সম্পদ ফেরত

ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা ‘মিজান’ জানিয়েছে, আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসায় ও নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করার পর আদালত কানবারির সম্পদ হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন। তবে এর মাত্র দুই দিন আগে গত শনিবার ইরানের গণমাধ্যমগুলো একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেখানে যুদ্ধ শুরুর পর যারা দেশের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন, তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় অধিনায়ক কানবারির নামও ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ ও সরকারের পাল্টা দাবি

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বিদেশে খেলতে যাওয়া অ্যাথলেটরা যেন দলছুট না হন, সে জন্য তাদের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো কৌশল নেয় ইরান সরকার। এ ক্ষেত্রে ফুটবলারদের মা–বাবাকে গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইরান সরকার পাল্টা দাবি করেছে, অস্ট্রেলিয়াই ফুটবলারদের সে দেশে থেকে যেতে প্ররোচিত করেছিল।

বর্তমান অবস্থা ও অবশিষ্ট ফুটবলার

অস্ট্রেলিয়া থেকে সেই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন ফিরে এলেও অন্য দুজন এখনো দেশটিতেই অবস্থান করছেন। তারা বর্তমানে ব্রিসবেন রোর ক্লাবের হয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাজনীতির জটিল সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।