আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানের সূচনা
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আলজেরিয়াকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে। বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে একাই ৩ গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়নদের এমন দাপুটে শুরুর পর স্বাভাবিকভাবেই সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা—প্রথম ম্যাচে দলের কোন খেলোয়াড় কেমন পারফর্ম করলেন?
ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকমের রেটিং অনুযায়ী, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়নের তুলে ধরা হলো-
গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডার
- এমিলিয়ানো মার্তিনেজ—৭/১০: ম্যাচে খুব একটা পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি তাকে। পাসিং ও বল বণ্টনে ছিলেন দারুণ কার্যকর। পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র একবার বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে।
- ফাকুন্দো মেদিনা—৭/১০: প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দী করে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পুরো ম্যাচে দুটি সফল ট্যাকল, একটি ব্লক এবং একবার বল ক্লিয়ার করেছেন।
- ক্রিস্টিয়ান রোমেরো—৭/১০: প্রতিপক্ষ পুরো ম্যাচে অন-টার্গেটে শট নিতে পেরেছেন মাত্র একটি। রক্ষণ সামলে ৮০ মিনিটে প্রতিপক্ষের চারটি আক্রমণ নস্যাৎ করেছেন।
- লিসান্দ্রো মার্তিনেজ—৮/১০: রক্ষণে ছিলেন অনবদ্য। দুর্দান্ত লড়াই করে চারবার বল ক্লিয়ার করার পাশাপাশি দুটি ট্যাকল ও একটি ইন্টারসেপশন দিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেন।
- গঞ্জালো মন্তিয়েল—৭/১০: প্রথমার্ধে রক্ষণে দারুণ অবদান রেখেছেন। তবে আগে থেকে ঠিক করে রাখা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ৪৬ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
মিডফিল্ডার
- রদ্রিগো দি পল—৮/১০: মাঝমাঠে বরাবরের মতোই দাপুটে ছিলেন। ৯০ মিনিটে ৬৮ বার বল টাচ করে ৯২ শতাংশ সফল পাস দিয়েছেন। এ ছাড়া লিওনেল মেসির প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও আসে তাঁর পা থেকেই।
- এনজো ফার্নান্দেজ—৭/১০: পাসিংয়ে নিখুঁতই ছিলেন বলা যায়। বল দখলে রাখতে এবং আক্রমণ সচল রাখতে পুরো ম্যাচেই কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
- আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার—৭/১০: আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই বল পায়ে এবং বল ছাড়া দারুণ খেলেছেন। ৯৪ শতাংশ সফল পাসের পাশাপাশি একটি সফল ট্যাকল, ছয়টি রিকভারি ও দুটি বল ক্লিয়ার করেছেন।
ফরোয়ার্ড
- থিয়াগো আলমাদা—৬/১০: উইং ধরে আক্রমণে গতি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এর বাইরে মাঠে তেমন বিশেষ কোনো অবদান রাখতে পারেননি।
- লিওনেল মেসি—১০/১০: পুরো ম্যাচেই ছিল ‘মেসি ম্যাজিক’। ৫৭ বার বল টাচ করে ৩০টি সফল পাস ও ২টি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছেন। পেনাল্টি বক্সে প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি নিয়েছেন ৬টি শট, যার ৪টিই ছিল অন-টার্গেট। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে দলের ৩টি গোলই করেন তিনি।
- লাওতারো মার্তিনেজ—৫/১০: মাঠে কাটানো ৫৫ মিনিটে একেবারেই চেনা ছন্দে ছিলেন না। শট ও পাসের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছেন, আক্রমণে দলের জন্য কোনো সুযোগ বা জায়গাও তৈরি করতে পারেননি।
পরবর্তী খেলা গ্রুপ কে রাত ১১টা পর্তুগাল – ডিআর কঙ্গো এনআরজি স্টেডিয়াম, হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী খেলাসমূহ: বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬ [গ্রুপ এল] রাত ২টা ইংল্যান্ড – ক্রোয়েশিয়া এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম, ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র; বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬ [গ্রুপ এল] ভোর ৫টা ঘানা – পানামা বিএমও ফিল্ড, টরন্টো, কানাডা।



