ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা। একই সঙ্গে এমবাপ্পেকে তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাদের মধ্যকার এই কাদা-ছোড়াছুড়ি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বিবাদের সূত্রপাত
সম্প্রতি এমবাপ্পেকে ‘উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়’ এবং ‘ফরাসি সেজে থাকার চেষ্টা করা, উদ্ধত ও কুৎসিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন আমারিয়া। তিনি আরও দাবি করেন, ফ্রান্স ভাগ্যক্রমে জিতেছে এবং পুরো ম্যাচে এমবাপ্পে ও তার দল আতঙ্কিত ছিল। জবাবে এমবাপ্পে তাকে ‘ঘৃণ্য নারী’ আখ্যা দিয়ে তার পদমর্যাদার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
সিনেটরের বক্তব্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে আমারিয়া বলেন, তার বিরোধ এমবাপ্পের সঙ্গে, ফ্রান্সের সঙ্গে নয়। তিনি জানান, এমবাপ্পে হয়তো জানেন না তিনি কে। তিনি শৈশব থেকে ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং ফ্রান্সের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও ম্যাচ চলাকালে এমবাপ্পে উদ্ধত আচরণ করেছেন এবং প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।
ম্যাচ চলাকালীন আচরণের নিন্দা
ম্যাচ চলাকালীন আচরণের নিন্দা জানিয়ে আমারিলা আরও লেখেন, ‘ম্যাচের সময় প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আপনার অহংকার ও অবজ্ঞা স্পষ্ট ছিল। আপনি লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক গালি ব্যবহার করেছেন। ম্যাচ শেষে আপনি আমাদের গোলরক্ষকের সাথে হাত মেলাননি, বরং তার মুখের ওপর জয়ের উল্লাস করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্রান্সের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দেশের উচিত আপনার এই আচরণের জন্য জবাবদিহি চাওয়া।’
পোস্ট মুছে ফেলার কারণ
অবশ্য ভাষা কিছুটা কঠোর হওয়ায় আগের পোস্টটি মুছে দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন এই সিনেটর। তিনি বলেন, ‘আমার শিরায় আদিবাসী ও স্প্যানিশ রক্তের মিশ্রণ রয়েছে। প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের অসম্মান করায় রাগে আমি ওসব লিখেছিলাম। তবে পরে আমার মনে হয়েছে, আমিও বর্ণবাদের শিকার হই। তাই ঘৃণার সেই চক্র ভাঙতে আমি পোস্টটি মুছে দিই। আমি বুঝি যে এটি আপনাকে আঘাত করেছে।’
আইনি হুমকি
তবে এমবাপ্পের তাকে ‘ঘৃণ্য ও অযোগ্য’ বলায় তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আমারিলা বলেন, ‘আমি প্যারাগুয়ের জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সিনেটর। আপনি আমাকে চেনেন না, তাই আমাকে অযোগ্য বলার কোনও অধিকার আপনার নেই। আমি জনগণের কণ্ঠস্বর।’
পোস্টের শেষে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগ এনে এই প্যারাগুয়ান সিনেটর বলেন, ‘আপনি কেবল আমি একজন নারী বলেই আমাকে অপমান করেছেন। আপনি আপনার ফরাসি নাগরিকত্বের সম্মান রাখুন এবং আমার কাছে ক্ষমা চান। তা না হলে আমি আপনার বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।’
সূত্র: এনডিটিভি



