কিশোরগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে ২০ জন আহত
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় একটি ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ চার পুলিশ সদস্য এবং দুই পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এই বাগ্বিতণ্ডা ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং রাত পর্যন্ত উত্তেজনা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ চলে। এরই প্রেক্ষাপটে গতকাল সকাল থেকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালায় এবং কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সময় থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশের তৎপরতা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার সময় তিনিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরিফুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
এই সংঘর্ষটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক বা স্থানীয় উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী এখনো ঘটনার তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে।



