যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে ফিফার দৃঢ় অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি সিএনবিসি আয়োজিত একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, "ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে আসবে। আমরা আশা করি, তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, তাতে সবার জন্যই ভালো হবে।"
রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ফুটবলের ঐক্যবদ্ধ বার্তা
ইনফান্তিনো তাঁর বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, "ইরানকে আসতেই হবে। তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, খেলোয়াড়েরাও খেলতে চায়। খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত।" ফিফা সভাপতির এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি বিবৃতিতে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি ও ফিফার অনড় অবস্থান
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান শুরুতে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এরপর ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। তবে ফিফা শুরু থেকেই ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই ইরানের খেলার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
গত মার্চে তুরস্কের আনতালিয়ায় ইরান-কোস্টারিকা প্রীতি ম্যাচ দেখতে গিয়েও ইনফান্তিনো একই কথা বলেছিলেন। তিনি তখন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "না, না। ড্র অনুযায়ী যেখানে খেলার কথা, সেখানেই ম্যাচগুলো হবে।"
বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিশ্বকাপ সূচি
এদিকে, ইরানে কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলা এবং এর জবাবে ইসরায়েলসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে ইরানের পাল্টা হামলার পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, গত সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। সূচি অনুযায়ী:
- ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান
- ২১ জুন একই ভেন্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম
- গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তারা খেলবে ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে
ফিফার এই অনড় অবস্থান দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায় রাজনৈতিক সংঘাতের ঊর্ধ্বে উঠে খেলাধুলার ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে প্রাধান্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



