বিশ্বকাপ ফুটবলকে স্বাগত জানিয়ে পুরান ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
পুরান ঢাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলকে স্বাগত জানিয়ে শোভাযাত্রা

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের পতাকা ও প্রতীকী বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন তারা। আয়োজক সংগঠন কিশলয় যুব সংঘ জানায়, ফুটবলের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন।

শোভাযাত্রার পথ ও অংশগ্রহণ

শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এটি চানখাঁরপুল, দোয়েল চত্বর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকা হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ৪৮টি দেশের পতাকা বহন করেন। কেউ আর্জেন্টিনার, কেউ ব্রাজিলের, আবার কেউ স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স বা পর্তুগালের জার্সি পরে অংশ নেন। ড্রামের তালে তালে শোভাযাত্রা এগোতে থাকলে উল্লাসে মেতে ওঠেন ফুটবলপ্রেমীরা। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকেরা নিজ নিজ দলের পক্ষে স্লোগান দেন।

উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণকারীদের অনুভূতি

পায়ে গুরুতর চোট নিয়েও মোটরসাইকেলে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেন সুজাত হোসেন (৪২)। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আনন্দ অন্য রকম। প্রতি বিশ্বকাপেই আমরা এটি উদযাপন করি। পায়ে বড় ধরনের ইনজুরি হওয়ার পরও বাসায় বসে থাকতে পারিনি। তাই চলে এসেছি এই আনন্দের অংশ হতে।’ চার বছর বয়সী ছেলে রেজা আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন সাবের হোসাইনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও আমাদের আয়োজন শুরু হলো। ছোটদেরও এই উৎসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। সবাই মিলে খুব উপভোগ করছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়োজকদের বার্তা

কিশলয় যুব সংঘের জ্যেষ্ঠ সদস্য মির্জা মো. আসলাম বলেন, ‘আমাদের এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করি। কে কোন দল সমর্থন করেন, সেটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের সবার পরিচয় আমরা ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের মধ্যে কোনো বিভেদ বা বিরোধ নেই—এই বার্তাই আমরা দিতে চাই।’ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ ফাইয়াজ আলী বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে চেয়েছি, যেখানে অংশগ্রহণকারী সব দেশের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ পাবে। যে কেউ এখানে এসে নিজের পছন্দের দলের পতাকা খুঁজে পাবে।’

আয়োজনের ইতিহাস

সাইয়েদ ফাইয়াজ আলী জানান, ২০০৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে কিশলয় যুব সংঘ এ ধরনের আয়োজন করে আসছে। শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষেও সংগঠনটি বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। এবার ১১ জুন পর্দা উঠছে ফুটবলের এই বৈশ্বিক আসরের।