মার্কিনিওসের পেনাল্টি মিসের পর মানসিক যন্ত্রণা, স্ত্রীর মুখে অকপট স্বীকারোক্তি
মার্কিনিওসের পেনাল্টি মিসের পর মানসিক যন্ত্রণা, স্ত্রীর স্বীকারোক্তি

২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে মার্কিনিওসের পেনাল্টি মিসের পর ক্রোয়াটদের উল্লাস। পাশেই হতাশায় ভেঙে পড়েন মার্কিনিওস। কাতারের আল রায়ানে এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম। সেদিন পেনাল্টি শুটআউটে ব্রাজিলের চতুর্থ শটটি নেওয়ার গুরুদায়িত্ব পেয়েছিলেন মার্কিনিওস। ব্রাজিলের এই সেন্টারব্যাক নিজের বাঁ দিকে শটটি নেন। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচও বোকা বনে উল্টো দিকে ডাইভ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সেদিন ব্রাজিলের পক্ষে ছিল না।

ঘটনার পরের অংশও প্রায় সবারই জানা। পোস্টে লেগে ফিরে আসে মার্কিনিওসের শট। তাতে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ব্রাজিল দলকেও বাড়ি ফিরতে হয় চার বছর আগে সেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এত দিন পর ব্রাজিলের সেই বিদায় নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠছে অন্য একটি কারণে। মার্কিনিওসের স্ত্রী জানিয়েছেন, পেনাল্টিটি মিস করার পর বড় মানসিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে গেছেন তাঁর জীবনসঙ্গী। এমনকি সে মিসের পর মার্কিনিওস কখনোই আর পেনাল্টি শট নেননি।

প্রামাণ্যচিত্রে প্রকাশ

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের রোজকার জীবন নিয়ে বানানো ‘কনভোকাদাস’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র গতকাল মুক্তি দিয়েছে দেশটির টিভি চ্যানেল ‘গ্লোবো টিভি’। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে যাঁরা থাকেন, তাঁদের জীবনটা কেমন কাটে এবং কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেসব নিয়েই প্রামাণ্যচিত্রটি বানানো হয়েছে। সেখানে অংশ নিয়েছিলেন পিএসজি তারকা মার্কিনিওস ও তাঁর স্ত্রী ক্যারল ক্যাব্রিনো। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা প্যারিসে বসবাস করছেন। এই প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক সংগীতশিল্পী ক্যাব্রিনো মার্কিনিওসের জীবনে সেই কঠিন সময় নিয়ে অকপটে সব কথা ভাগ করে নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ত্রীর বক্তব্য

ক্যারল ক্যাব্রিনোর ইনস্টাগ্রাম পেজে ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ আটে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে মার্কিনিওসের সেই মিস হওয়া শটটি নিয়ে ক্যাব্রিনো বলেন, ‘সেদিনের পর সে (মার্কিনিওস) আর কখনোই পেনাল্টি শট নেয়নি।’ পিএসজিতে ১৩ বছর ধরে খেলা মার্কিনিওস সেই মিসের পর ভেবেছিলেন, তাঁর জাতীয় দলে ক্যারিয়ার সেখানেই বুঝি শেষ! খুদে বার্তায় ক্যাব্রিনোকে জানিয়েছিলেন সেই শঙ্কার কথা। ক্যাব্রিনো এ নিয়ে বলেছেন, ‘সেই দিনে আমার চেনা দুনিয়াটা ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল। যে মুহূর্তে বুঝতে পারলাম ও (মার্কিনিওস) ভুল করে ফেলেছে এবং আমি জানতাম আমাকে ভীষণ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা আমি পুরোপুরি টের পাই ওর কাছ থেকে একটি বার্তা পাওয়ার পর। ও আমাকে লিখেছিল, ওর ক্যারিয়ার হয়তো এখানেই শেষ, সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে, ব্রাজিলে এটা সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার।’

বর্তমান অবস্থা

মার্কিনিওসের ক্যারিয়ার সেখানেই শেষ হয়নি। ৩২ বছর বয়সী নির্ভরযোগ্য এই ডিফেন্ডারকে এবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে পিএসজির হয়ে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী মার্কিনিওসের স্ত্রীর দাবিটা সত্যি। কাতারে সেই বিদায়ের পর পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ফাইনালসহ মোট ছয়বার টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকা কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। এর একটি ম্যাচেও পেনাল্টি শট নেননি মার্কিনিওস।

ভেঙে পড়া মুহূর্ত

চার বছর আগের সেই পেনাল্টি মিসের পর মার্কিনিওস কতটা ভেঙে পড়েছিলেন, সেটা তাঁর স্ত্রী ক্যাব্রিনোর মুখেই শুনুন, ‘আমার ফোনটা বাজল। মনে আছে, সিবিএফের (ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন) কেউ অপর প্রান্ত থেকে বলছিল, “ক্যারল, আপনার এখানে আসা খুব দরকার।” বেচারা (মার্কিনিওস) তখন বিছানার চাদর মুড়ি দিয়ে কাঁদছিল। আমি কী বলব বুঝতে না পেরে ওকে শুধু জড়িয়ে ধরলাম। ভাবলাম, এ মুহূর্তে কিছু না বলাই ভালো, হয়তো এই কঠিন সময়টা ওর একা একাই পার করা দরকার।’

ক্যাব্রিনো বলে যান, ‘আমার মনে আছে, সে সময় নেইমারকে একটা বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলাম, “আমার রুমে এসো, তোমার বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলো।” ও যখন এল, তখন ও কাঁপছিল; চারপাশের পরিবেশটাই কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠেছিল। নেইমার এসে ওকে সান্ত্বনা দিল, পাশে দাঁড়াল। আমি ওকে শুধু বলেছিলাম, ফুটবল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তোমার একটা পরিবারও আছে। ভুল করলেও তুমি তো মানুষ। ম্যাচের সব দায় একা নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারো না।’

আগামী বিশ্বকাপ

এবার বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী দল মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন মরক্কোর মুখোমুখি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র।