ভারত ম্যাচের আগে মদ খেয়ে মাতাল ম্যানেজার নওমী, বাফুফেতে সাফের অভিযোগ
মদ খেয়ে মাতাল ম্যানেজার নওমী, বাফুফেতে সাফের অভিযোগ

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতকে হারালেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমী মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।

সাফের অভিযোগপত্রে কী বলা হয়েছে?

সাফ সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টালের পাঠানো অভিযোগপত্রে টিম হোটেলে একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল নিয়ম ভেঙে বাইরে থেকে আনা পানীয় নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা, ব্যবস্থাপকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, মেডিকেল সুবিধা ঘিরে অশোভন আচরণ এবং জনসমক্ষে অনিয়ন্ত্রিত আচরণ।

ঘটনার ধারাবাহিকতা

থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে ব্যাংকক থেকে সরাসরি গোয়ায় পৌঁছে বাংলাদেশ দল। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ব্যাংককের ডিউটি ফ্রি দোকান থেকে কেনা দুই বোতল মদ নিয়ে গোয়ার প্ল্যানেট হলিউড বিচ রিসোর্টে চেক-ইনে প্রথমদিকে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে পরবর্তী পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়, যখন বাইরে থেকে মদ কিনে হোটেলে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী, বাইরের পানীয় ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, এর পরও ঘটনার ধারাবাহিকতা থেমে থাকেনি। রিসোর্টে বাংলাদেশ দলের জন্য মেডিকেল রুম বরাদ্দের দাবি তোলা হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ একটি কক্ষ বরাদ্দ দিলেও কয়েক ঘণ্টা পর সেই কক্ষের ডিজিটাল চাবি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে ফের উত্তেজনা তৈরি হয় এবং হোটেল কর্মীদের সঙ্গে তীব্র অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে রিসোর্টসংলগ্ন সৈকত এলাকায় প্রকাশ্যে মদ্যপান করেছেন নওমী, যেখানে সাফের একাধিক কর্মকর্তা ও ম্যাচ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নওমীর পূর্ববর্তী আচরণ

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা খালিদ মাহমুদ দীর্ঘদিন বাফুফের মিডিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে নারী দলের একাধিক আন্তর্জাতিক সফরে ম্যানেজারের দায়িত্ব পান। মার্চে অস্ট্রেলিয়া সফর, থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ এবং সবশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সব মিলিয়ে তার দায়িত্বকাল ধারাবাহিক হলেও আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে একাধিকবার। মেয়েদের ২০২২ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি সাফজয়ী দলের মিডিয়া ম্যানেজার ছিলেন নওমী। নেপালে ঠান্ডা পড়ে বিধায় সেখানে মদ সহজলভ্য। সেই সুযোগে আগের দুই আসরেও বেপরোয়া চলাফেরা ছিল নওমীর। ঢাকা থেকে যাওয়ার পথে ডিউটি ফ্রি দোকান থেকে মদ কেনা এবং আসার পথেও একই ঘটনা ঘটাতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পার্টিও থাকত সফরে। সেই পার্টিতে যোগ দিতেন অনেকেই। ফলে মাতাল অবস্থায় দলের যাবতীয় তথ্য ফাঁস করে দিতেন তিনি। ফলে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার ও ফুটবলারদের বিদ্রোহের মতো নেতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে দেশের ফুটবলে।

বাফুফের পদক্ষেপ

এসব অভিযোগ বাফুফের কানেও গেছে। ফলে তাকে মিডিয়া ম্যানেজার থেকে সরিয়ে দলের ম্যানেজার করা হয়। তবু পালটায়নি নওমীর উচ্ছৃঙ্খল জীবন। বরং আরও বেড়েছে। সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ সফরে নতুন মিডিয়া ম্যানেজার সাঈদ হাসানকে সঙ্গী করেই এখন নিয়মিত পার্টি করেন তিনি। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার সাফের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিতর্কের রাজনৈতিক মাত্রা

বাফুফের সাবেক সভাপতি দুর্নীতিবাজ কাজী সালাউদ্দিন এবং তার দোসর ফ্যাসিস্ট মাহফুজা আক্তার কিরণের সহযোগী নওমী নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যের আড়ালে একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছেন। গোয়ার আকাশে তাই এখন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব: একদিকে মাঠের জয়যাত্রা, অন্যদিকে নওমীর মদ কেলেঙ্কারির অস্থিরতা। বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।