সব ধরনের প্রতিকূলতা ও মাঠের বাইরের সংকট পেছনে ফেলে আবারও ঘরোয়া ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেলো বসুন্ধরা কিংস। আবাহনী লিমিটেডকে ২-০ গোলে পরাজিত করে লিগের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা নিশ্চিত করেছে দলটি। এমন এক সময়ে কিংস এই ট্রফি জিতলো, যখন ক্লাবের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে ম্যানেজমেন্টকে।
আর্থিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞা
গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের শীর্ষ ফুটবল ক্লাব বসুন্ধরা কিংস বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার সম্মুখীন হয়। একসময়ের করপোরেট জায়ান্ট ক্লাবটিতে কোচ ও খেলোয়াড়দের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এখানেই শেষ নয়, বকেয়া জটিলতায় ফিফা থেকে ক্লাবটির ওপর একের পর এক ১১টি দলবদল নিষেধাজ্ঞা আসে। ক্লাব লাইসেন্সিং ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলা নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা, ঠিক তখনই খেলোয়াড়দের অদম্য আত্মবিশ্বাস ও মাঠের পারফরম্যান্সের জোরে চ্যাম্পিয়ন হলো কিংস।
সভাপতির আবেগঘন পোস্ট
শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান। তিনি এবারের শিরোপাকে বিগত সাত বছরের যেকোনো অর্জনের চেয়ে আলাদা বলে উল্লেখ করেন। ইমরুল হাসান লেখেন, “গত ৭ বছরে অনেক শিরোপা জিতেছে কিংস। কিন্তু এবারের শিরোপার মাহাত্ম্য সম্পূর্ণ আলাদা। মাঠ এবং মাঠের বাইরে শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। আমরা (ম্যানেজমেন্ট) আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলেও বিশ্বাস এবং আস্থা ছিল খেলোয়াড় ও কোচদের ওপর। আমি মনে করি বিগত বছরগুলোতে আমরা যা দিয়েছি, তারই প্রতিদান এবার তারা আমাদের দিয়েছে।”
শিরোপার কৃতিত্ব উৎসর্গ
এবারের শিরোপার পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং দুঃসময়ে পাশে থাকা নিঃস্বার্থ সমর্থকদের উৎসর্গ করেন তিনি। বিজয়ের মুহূর্তে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কিংস সভাপতি। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, “রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই চোখের কোণে অশ্রু চিকচিক করে। তা দেখে ছোট ছেলে জিজ্ঞেস করে— ‘আমার জন্মদিনে কাঁদছো কেন পাপা?’ ওকে জড়িয়ে ধরে বলি— ‘এ অশ্রু আনন্দের পাপা।’ শিরোপা জয় আর ওর জন্মদিনের আনন্দ দিনটিকে করে তুলে অসীম আনন্দদায়ক।”



