বিশ্বকাপ আসলেই যেন আলোচনায় থাকে ইতিহাসের নানা গল্প। ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত হয়েছে ২২টি বিশ্বকাপ। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে ৮০টি দল। তবে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নিলেও বেশির ভাগ দলই খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। সেরা দলগুলোর সাফল্যও এক রকম নয়। কেউ একটু বেশি সফল, কেউ কম। আর এই সফল দলগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে অলটাইম র্যাঙ্কিং।
র্যাঙ্কিং পদ্ধতি
বিশ্বকাপের র্যাঙ্কিং করা হয়েছে একটি অভিন্ন পয়েন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে। সব আসরের জন্য জয়ের ক্ষেত্রে ৩ পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য ১ পয়েন্ট ধরা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমে বিবেচনায় আসে মোট পয়েন্ট। যদি দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়, তাহলে দ্বিতীয় টাইব্রেকার হিসেবে ব্যবহৃত হয় গোল ব্যবধান, অর্থাৎ গোল করেছে কত এবং হজম করেছে কত, তার পার্থক্য। এরপরও সমতা থাকলে দেখা হয় মোট গোলের সংখ্যা।
শীর্ষে ব্রাজিল
এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দল। ব্রাজিলই একমাত্র দল, যারা ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললে এটি হবে তাদের টানা ২৩তম অংশগ্রহণ। ধারাবাহিক উপস্থিতি, পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন এবং অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের কারণেই ব্রাজিল এখনো টুর্নামেন্টটির সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও সফল দল হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০০২ সালের পর আর ট্রফি না জিতলেও বিশ্বকাপের অলটাইম র্যাঙ্কিংয়ের টেবিলে এখনো শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল দল। ১১৪ ম্যাচে ৭৬ জয়, ১৯ ড্র ও ১৯ হারে মোট ২৪৭ পয়েন্ট তাদের। আর এই পথে ব্রাজিল করেছে ২৩৭ গোল এবং তাদের গোল ব্যবধান +১২৯। এ ছাড়া তারা জিতেছে পাঁচটি বিশ্বকাপ। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপা জেতে তারা। এরপর ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতে ‘সেলেসাও’রা।
দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি
অলটাইম র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে আছে জার্মানি। জার্মানি জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পশ্চিম জার্মানি ও একীভূত জার্মানির রেকর্ড মিলিয়ে ২০২২ পর্যন্ত তারা খেলেছে ২০টি বিশ্বকাপে। ১১২ ম্যাচে তাদের ২২৫ পয়েন্ট। বিশ্বকাপে তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া। জার্মানি প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ১৯৫৪ সালে। এরপর ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে ট্রফি জেতে তারা। এ ছাড়া জার্মানি মোট আটবার ফাইনাল খেলেছে, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ধারাবাহিক সফল দলগুলোর একটি করে তুলেছে।
তৃতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের সর্বকালের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ৮৮ ম্যাচে তারা ৪৭ জয়, ১৭ ড্র ও ২৪ হারে সংগ্রহ করেছে ১৫৮ পয়েন্ট। আর্জেন্টিনা করেছে ১৫২ গোল এবং তাদের গোল ব্যবধান +৫১। আর্জেন্টিনার তিন শিরোপা এসেছে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে মোট ছয়বার ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব তাদেরকে ইতিহাসের সেরা দলগুলোর অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সংখ্যার হিসাবে আর্জেন্টিনা ইতিহাসে তৃতীয় স্থানে। ‘আলবিসেলেস্তেরা’ প্রথম বিশ্বকাপ খেলে ১৯৩০ বিশ্বকাপে। তবে তারা ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের আসরে অংশ নেয়নি। এরপর ১৯৭৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিয়মিতভাবে খেলেছে আর্জেন্টিনা। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিলে আর্জেন্টিনার মোট বিশ্বকাপ উপস্থিতি দাঁড়াবে ১৯-এ।
চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান
আর্জেন্টিনার চেয়ে বিশ্বকাপ জেতায় এগিয়ে থাকলেও অলটাইম পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছে ইতালি। ৮৩ ম্যাচে ৪৫ জয় নিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৫৬ পয়েন্ট, যা আর্জেন্টিনার চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট কম। ইতালির গোল ব্যবধানও +৫১। পরপর তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারাও ইতালিকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। ইতালির চারটি বিশ্বকাপ এসেছে ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে।
তালিকার ৫ নম্বরে আছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ৭৩ ম্যাচে তারা ৩৯ জয় নিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৩১ পয়েন্ট, আর তাদের গোল ব্যবধান +৫১। ফ্রান্স নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ১৯৯৮ সালে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বকাপটি তারা হাতে তোলে ২০১৮ সালে। এ ছাড়া ২০০৬ ও ২০২২ সালে ফাইনালে গিয়ে হেরে যায় তারা।
এ ছাড়া যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইতালি, দুই দলই খেলেছে ১৮টি বিশ্বকাপ। আর মেক্সিকো অংশ নিয়েছে ১৭টি আসরে।



